৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, সোমবার ২১ মে ২০১৮, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত ১৬


১৫ মে ২০১৮ মঙ্গলবার, ১০:৪৫  এএম

নতুনসময়.কম


পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত ১৬

মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ। ইট-পাটকেল আর দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি। চারদিকে হৈ-হুল্লোড়-চিৎকার। ব্যালট-বাক্স ছিনতাই ও আগুন। রক্তের ছুপছুপ দাগ লেগে আছে ব্যালটের গায়ে। চারদিকে হাউমাউ চিৎকার গণ্ডগোল। এটাই পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের চিত্র। পশ্চিমবঙ্গের ২০টি জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

সোমবার রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী এ খবর জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

এই নির্বাচনে সংঘর্ষ, ব্যালট বাক্স জ্বালিয়ে দেওয়া, ব্যালট পেপার পানিতে ফেলে দেওয়া ও হতাহতের ঘটনায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিরোধীদলগুলোর বিরুদ্ধেও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচনী সহিংসতায় ছয় জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে রাজ্য পুলিশ। তারা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিন জন তৃণমূলের, দুই জন সিপিএম ও এক জন ঝাড়খণ্ড দলের কর্মী।

এর বাইরে এ দিন নিহত অন্যান্যদের সঙ্গে ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি পুলিশের।

সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নদিয়া জেলার শান্তিপুরের বাবলা গ্রামে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে বুথের মধ্যেই পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। নন্দীগ্রামে বিরোধী পক্ষের গুলিতে সিপিএমের দুই কর্মী নিহত হন। তৃণমূলের ‘বাইকবাহিনীকে’ প্রতিরোধ করতে গিয়ে তারা নিহত হন বলে অভিযোগ।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডিতে তাদের দুই সমর্থক নিহত হয়েছেন বলে দাবি রাজ্য বিজেপির।

এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার বিকেলেই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্রোপাধ্যায় তার দলের নিহত ছয় জনের তালিকা দেন এবং রাতে তা আরও বাড়ে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশন রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ব্যাপক সহিংসতার পর পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা, কোথাও পুননির্বাচন করা হবে কি না তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানা গেছে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, রোববার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন পাশে আছে এই আশ্বাস দিয়ে সবাইকে নিরাপদে ভোট দিতে বলেছিলেন।

কিন্ত নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির পর রাজ্য সরকারের একটি সূত্র ৪৭ হাজার বুথে ভোট হয়েছে জানিয়ে সে তুলনায় সহিংসতার ঘটনা ‘নগণ্য’ বলে দাবি করেছেন।

এর আগে ২০১৩ সালে রাজ্যটির পঞ্চায়েত ভোটে সহিংসতায় মোট ২৫ জন নিহত হয়েছিলেন।


পিডি

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: