৫ শ্রাবণ ১৪২৫, শুক্রবার ২০ জুলাই ২০১৮, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র


০৬ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার, ০৫:৩৪  পিএম

নতুনসময়.কম


নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে মাতারবাড়ী সমন্বিত বিদ্যুৎ প্রকল্প। সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি বড় (মেগা) প্রকল্পের একটি।

দেশি-বিদেশি (মূলত জাপানি) মিলে কয়েক হাজার লোকের কর্মব্যস্ততায় সরগরম প্রকল্প এলাকা। ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরেজমিনে প্রকল্পের নির্মাণপর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা। ব্যস্ততা তাই অনেক বেশি। সরকারি খাতের ‘কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’ (সিপিজিসিবিএল) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লা আমদানির জন্য একটি টার্মিনাল, কয়লা খালাস ও মজুতের ব্যবস্থা, সমুদ্র থেকে ওই টার্মিনাল পর্যন্ত কয়লাবাহী জাহাজ আনার জন্য ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে ১৮ মিটার গভীর ও ২৫০ মিটার প্রস্থ তলদেশের একটি খাল খনন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য লাইন ও উপকেন্দ্র তৈরি, প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় শহর, সড়ক যোগাযোগ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন করা হবে।

এই প্রকল্প এলাকায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরো একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাইকার সহায়তা চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সিপিজিসিএলের আওতায় ওই এলাকায় আরো ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই কেন্দ্রগুলো স্থাপনের প্রক্রিয়া চলেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একটি সূত্র জানায়, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে জমি অধিগ্রহণসহ এই প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে অনেকটাই বাড়বে। শেষ পর্যন্ত তা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। সে হিসাবে এটি এখন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রকল্প। এর চেয়ে বেশি ব্যয়ের একমাত্র প্রকল্প হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।

জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে। এখন নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে।

তবে প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী সিপিজিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে তারা কাজ শেষ করতে পারবেন।

প্রকল্পের নির্মাণ ঠিকাদার জাপানের সুমিতোমো-তোশিবা-আইএইচআই করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে হওয়া কোম্পানি। এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের পুঞ্জীভূত ব্যয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ শুক্রবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মাতারবাড়ী প্রকল্পের প্রায় ১ হাজার ৬০০ একর জায়গা এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কয়লা বন্দরের জন্য ব্যবহার করা হবে। পরবর্তী সময়ে এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: