৪ আষাঢ় ১৪২৫, সোমবার ১৮ জুন ২০১৮, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

দেশে বাড়ছে কাঁকড়া চাষ


১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার, ১১:০৩  এএম

নতুনসময়.কম


দেশে বাড়ছে কাঁকড়া চাষ

দেশের বাজারে তেমন চাহিদা না থাকলেও বিদেশে ক্রমশ বাংলাদেশী কাঁকড়ার চাহিদা বাড়ছে। চাষীরা বলছেন, কাঁকড়া চাষে ভাইরাস আক্তান্ত হওয়ার ভয় নেই। নেই বিনিয়োগের ঝুঁকি। প্রক্রিয়াকরণে জটিলতা বা দ্রুত পচনেরও ভয় নেই। চিংড়ির মতো পোনা কিনতে হয় না কাঁকড়ার।

জানা গেছে, প্রাকৃতিকভাবেই লোনা পানিতে কাঁকড়া জন্মায়। কাঁকড়ার চাষ ও ফ্যাটেনিংয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কাঁকড়া ফ্যাটেনিংকেই চাষ নামে অভিহিত করা হয়।

কাঁকড়া সাধারণত মাংসাশী খাবার শামুক, ঝিনুক, চিংড়ি ও অন্যান্য কাঁকড়া এবং মাছ খেতে পছন্দ করে। এ অঞ্চলে শামুক-ঝিনুকের অপর্যাপ্ত প্রাপ্যতা এবং ট্রাশফিশ সহজলভ্য না হওয়ায় চাষীরা ফ্যাটেনিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত কাঁকড়ার খাবার হিসেবে তেলাপিয়া মাছ ব্যবহার করেন।

দেশে দুই ধরনের কাঁকড়া পাওয়া যায়। একটি লোনাপানির, অন্যটি মিঠাপানির। মিঠাপানির কাঁকড়া তুলনামূলক কম। লোনাপানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ যত বেশি থাকবে, কাঁকড়ার উপাদানও তত বেশি হবে। দক্ষিণাঞ্চলের নদীনালা, খালবিল, বিস্তৃত চিংড়িঘের ও সুন্দরবনে লোনাপানির কাঁকড়া মেলে। এদের গড় আয়ু এক থেকে দেড় বছর।

চিংড়িঘেরে বড় হওয়া কাঁকড়ার ৯০ শতাংশই ধরা পড়ে। প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়া কাঁকড়ার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আহরণ করা সম্ভব হয়। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দেড় লাখ জেলে প্রাকৃতিক উৎসগুলো থেকে কাঁকড়া ধরে জীবনযাপন করছেন। শুধু সুন্দরবন এলাকাতেই ৫০ থেকে ৬০ হাজার জেলে এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ এলাকায় এখন ব্যক্তি উদ্যোগে কয়েক হাজার কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে।

খুলনার পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা, কালীগঞ্জ, আশাশুনি, বাগেরহাটের রামপাল ও মংলায় এ ছোট ছোট পুকুরে কাঁকড়া মোটাতাজা করা হচ্ছে। আবার কোথাও বড় বড় ঘেরে চিংড়ির কাঁকড়া ছেড়ে বড় করা হচ্ছে। উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচায় আটকে রেখেও চাষ করা হচ্ছে কাঁকড়া।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কান্তি মিস্ত্রী বলেন, কাঁকড়া মোটাতাজা করে চাষীরা দ্রুত লাভবান হচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষের জন্য সরকারিভাবে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ এবং নানা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

কয়রা উপজেলার কাঁকড়া চাষী নিশীত রঞ্জন মিস্ত্রী বলেন, কাঁকড়া দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার উম্মোচন করেছে। উপকূলবর্তী এলাকার লাখো চাষীপরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখছে কাঁকড়া চাষে। তিনি এ খাতে চাষীদের সহজ শর্তে প্রয়োজনীয় কৃষিঋণ এবং সরকারিভাবে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের দাবি জানান।

কাঁকড়া রপ্তানির বড় অংশ যায় চীনে। এছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, জাপান, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমার এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ মিলিয়ে মোট ২৪ দেশে এই কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছে।

কাঁকড়া ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁকড়া রপ্তানিতে প্রতিবছর গড়ে আয় হচ্ছে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। বিগত ২১ বছর ধরে কাঁকড়া রপ্তানি হলেও এটি এখনও দেশের অপ্রচলিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কাঁকড়া রপ্তানি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে কাঁকড়া আহরণ পরিবেশের ক্ষতি করে- এ যুক্তিতে সরকার ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে কাঁকড়া আহরণ ও রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এতে বিদেশে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের কাঁকড়ার বাজার বেদখল হয়ে যায়। পরে কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার রপ্তানির অনুমতি দিলেও সাগর বা উন্মুক্ত জলাশয় থেকে আহরণের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেয়া। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি- এই তিন মাস বিদেশে কাঁকড়ার চাহিদা বেশি থাকে বলে এ সময়কে আহরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা চান বিধিনিষেধমুক্ত পরিবেশ।

পিডি

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: