৪ আষাঢ় ১৪২৫, সোমবার ১৮ জুন ২০১৮, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

দেখে আসুন ছুটি খাঁ জামে মসজিদটি


২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১১:২২  এএম

নতুনসময়.কম


দেখে আসুন ছুটি খাঁ জামে মসজিদটি

কালের যাত্রায় ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে ইসলামের বীরত্বগাথা অনেক গল্প। বাংলায় মুসলমান শাসকদের আগমন এবং তাদের দ্বারা মসজিদের স্থাপনা একটি সহজাত বিষয় ছিল। সে সময় অনেক মসজিদই স্থাপিত হয়েছে। তেমনই এক ঐতিহাসিক মসজিদ ছুটি খাঁ।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন এ মসজিদ ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরনো মহাসড়কের পশ্চিম পাশে উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারের আধাকিলোমিটার উত্তরে ছুটি খাঁ দীঘির পূর্ব পাড়ে অবস্থিত।

এ মসজিদের ইতিহাস ঘেটে যা জানা যায় গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহের আমলে পঞ্চাদশ শতাব্দীর প্রথমার্থে উত্তর চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন লস্কর পরাগল খাঁ ও পরবর্তী তার ছেলে ছুটি খাঁ।

পরাগল খাঁর পিতা রাস্তি খাঁও গৌড়ের শাসনকর্তা রুকুনুদ্দীন বারবাক শাহের শাসনমলে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন। পরাগল খাঁ ও ছুটি খাঁর শাসনামলে চট্টগ্রামের শাসনকেন্দ্র ছিল পরাগলপুর। এ সময় এখানে বেশ কিছু দীঘি ও কয়েকটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ছুটি খাঁ মসজিদের মূল ভবনটি বহুদিন আগে ভেঙ্গে পড়ে। পরবর্তীতে মসজিদটি আবার নতুনভাবে নির্মিত হয়।

পুরনো মসজিদের কিছু ধ্বংসাবশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। কৃষ্ণবর্ণের নানা ডিজাইন ও সাইজের পাথরগুলো মসজিদ প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এখনো। ছুটি খাঁ দীঘির অভ্যন্তরে ও মসজিদের ভেতরে একাধিক শিলালিপি রয়েছে। তার মধ্যে একটি শিলালিপিতে পবিত্র কোরান শরিফের আয়াতুল কুরসি লিখা আছে।

ছুটি খাঁ কর্তৃক এ মসজিদ স্থাপন করা হয় ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে। এ মসজিদটি অদ্যাবধি পাঁচশ বছর ধরে এ অঞ্চলের কীর্তিমান শাসক ও লড়াকু সৈনিক ছুটি খাঁর স্মৃতি হিসেবে টিকে আছে।

প্রতি শুক্রবার ও ঈদের নামাজে এ মসজিদে নামাজ পড়তে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। আশপাশ এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ছুটে আসেন এ মসজিদে ইবাদত বন্দেগীর জন্য। সৌন্দর্য্যের প্রতীক এ মসজিদ পর্যটকদের কাছেও দারুণ আকর্ষণীয়। প্রাচীন এ মসজিদ যুগ যুগ ধরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও সৌন্দর্য্যের সাক্ষী হয়ে।

পিডি

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: