৮ ফাল্গুন ১৪২৪, বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শিতা


০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৬:১৬  পিএম

আল মাসুদ নয়ন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শিতা

সুদূর প্রসারী চিন্তা, দূরদর্শিতা এবং তার বাস্তবায়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক-প্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার এই বিশ্বনেতা মেধা এবং মননে বিশ্ববাসীর কাছে এক অন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসরত হলেও তিনি বাঙালি, তার দূরদর্শিতা ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়ন। তিনি বাঙালি জাতির উন্নয়নের নেতা।

২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে ‘মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স’-এ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেছেন, ভবিষ্যতে ৮০ শতাংশ সরকারি সেবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে ‘মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স’-এ তিনি বলেন, ‘নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও প্রকৌশলীদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন ভবিষ্যত। নতুন প্রজন্মকে এজন্য প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে।’ ঠিক এখানেও তার দূরদর্শিতা। অগ্রিম বার্তা বহমান প্রতিটি বক্তব্যের লাইনে লাইনে।

বাংলাদেশের তথ্য এবং প্রযুক্তি গবেষকদের জন্য নতুন সময়ের কোনো নতুন পথ। তার প্রতিটি বক্তব্যেই দূরদর্শিতার বিষয়টি ফুটে ওঠে। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি তথ্য এবং প্রযুক্তিতে অবদান রাখার জন্য বিশ্বযুব নেতা হিসেবে মনোনীত হন। এই বিশ্বনেতার স্বপ্নের ফসল আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে ‘মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স’-এ তিনি আরো বলেন, “বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে আইটি শিক্ষা প্রাইমারি লেভেল থেকে শুরু করার। প্রাথমিকে আইটি শিক্ষা শুরু করা ষষ্ঠ শ্রেণির চেয়ে কঠিন হবে না বলেই তার বিশ্বাস।” “এই লেভেলে লেখা শেখানো বা হোমওয়ার্কগুলো ট্যাবের (ট্যাবলেট পিসি) মাধ্যমে করা যেতে পারে। শিশুরা এগুলো খুব দ্রুত শেখে। তবে এখানে আমাদের রিসোর্স একটি চ্যালেঞ্জ। স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেশে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে এ শিক্ষা শুরু করা যাবে।”

২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর পর গত নয় বছরে দেশের ৪০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটাল হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আগামীতে বেশির ভাগ সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

তার ভাষায়, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছে। ফলে, অর্থনীতির বিকাশ ও শিল্পায়ন দ্রুততর হচ্ছে। এখন সময় এসেছে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ নিয়ে কথা বলার। বাংলাদেশও ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে।

“আগামীতে ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি চালকহীন হবে। সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব দেখা যাবে। আগামীর বাংলাদেশ পৃথিবীর এসব উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।”

সজীব ওয়াজেদ বলেন, বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়েই সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে। জনগণ সুফল পাচ্ছে বলে বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ।

প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট, জেনেটিক এডিটিং আমরা দেখতে পাবো।”

তথ্য এবং প্রযুক্তির এই বিশ্বনেতার বক্তব্যের প্রতিটি লাইনেই নতুন কোনো উন্নয়নের পরিকল্পনা, নতুন কোনো বাস্তবতার চিহ্ন। তা এবং প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দ্রুততার সঙ্গে বাঙালি জাতির জীবনের মান উন্নয়ন করা যায়, তা তিনি বাংলাদেশে দৃশ্যমান করেছেন, তার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছেন।

প্রতিটি মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে শেখানোর মতো অবস্থা এই যে, দেখেন, এই ছিল, আর এই হলো, এই হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা ডাইডোন কালোম্বো এনকিলে, কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কান চানমেটা এ আলোচনায় বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী দীননাথ দুঙ্গায়েল, মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী তারিক আলী লুথুফি, ফিলিপিন্সের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা, সৌদি আরবের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ ফাহাদ আলী আরাল্লাহ সম্মেলনে অংশ নেন।

[সূত্র: উইকিপিডিয়া, সজীব ওয়াজেদ জয়ের বায়োগ্রাফি এবং সংবাদ বিশ্লেষণ]

আরো পড়ুন-

# নতুন সময়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ: জয়ের স্বপ্ন এবং বাস্তবতা

# জয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশে অনলাইন টেলিভিশন ‘নতুন সময়’

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: