১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৩:০১ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo
Rifats Dental Implant Laser Cosmetic Care
Patbhavon

‘জীবন বিকশিত হোক, বিনয়ে অভিনয়ে’


৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০৪:৫৩  পিএম

নতুনসময়.কম


‘জীবন বিকশিত হোক, বিনয়ে অভিনয়ে’

 

‘জীবন বিকশিত হোক, বিনয়ে অভিনয়ে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নাটোরের বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নাটক ও যাত্রাপালার সমন্বয়ে দুই দিনব্যাপী নাটুয়া উৎসব-২০১৬ শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলার ধুপইল গ্রামের নাট্যজন ধীরাজ কুমার সুর চৌধুরী স্মরণে সম্মাননা দেওয়া হয় নাট্য ব্যক্তিত্ব তথা বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজী সাইদ হোসেন দুলালকে।

শীতের প্রকোপ উপেক্ষা করে উৎসব উপভোগ করতে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগম হয় সেখানে।

আয়োজক ও দর্শকের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব আয়োজন দর্শকদের শুধু সংস্কৃতির শেকড়েই টানবে না, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদক সহ নানা অপরাধ থেকে যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এবারের উৎসবে অংশ গ্রহন করেছে নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংগঠন।
 
বাগাতিপাড়ার চলন নাটুয়া সংগঠনের আয়োজনে দুই দিনের এ উৎসবের প্রথম দিন মঞ্চস্থ হয় শিশুতোষ নাটক বনকাব্য ও যাত্রাপালা বিজয় বসন্ত। দেবাশীষ কুণ্ডুর নির্দেশনায় বাগাতিপাড়ার বকুল স্মৃতি থিয়েটার মঞ্চস্থ করে আহসান কবীর লিটন রচিত শিশুতোষ নাটক ‘বনকাব্য। এ নাটকে বাঙালি সকল পেশাজীবীদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে চায় ও জানাতে চায় এ ভূখণ্ডের বন্যপ্রাণীরা। কিন্তু তাদের উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সত্য তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না।

অবশেষে কবিগুরু ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ এই গানটিকে বক্ষে ধারণ করে তারা খুঁজে পেতে চায় প্রকৃত ইতিহাস। অপরদিকে হীরেন্দ্র কুমার দাস রচিত ‘বিজয়বসন্ত’ নাটকটি মঞ্চস্থ করে চলন নাটুয়ার শিল্পীরা। এ নাটকের সার্বিক নির্দেশনায় ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন।

বিজয় ও বসন্ত দুটি শিশু সন্তানের কাহিনি নিয়ে মঞ্চায়িত নাটকটিও যথেষ্ট আকর্ষণ করেছে দর্শকদের। কনকনে শীতের প্রকোপকে উপেক্ষা করে উৎসবে ভিড় জমায় শিশু-কিশোর এবং নারী পুরুষসহ বিপুল পরিমাণ দর্শক। অভিনয় দেখে মুগ্ধ উৎসবে আসা দর্শকরা।

নাটুয়া উৎসব-২০১৬

উৎসবের সমাপনী দিন শুক্রবার টাঙ্গাইলের ভুঁয়াপুরের ধুমকেতু থিয়েটার মঞ্চস্থ করে মান্নান হীরা রচিত ‘খেঁকশিয়াল’, নাটোরের ইঙ্গিত থিয়েটার মঞ্চস্থ করে প্রদীপ দেওয়ানজীর রচিত ‘দাবি’ ও চলন নাটুয়া মঞ্চস্থ করে সিকান্দার আবু জাফরের রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’। দ্বিতীয় দিনেও দর্শকদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মত।

উৎসবের আয়োজক ও দর্শকদের মতে, এসব আয়োজন দর্শকদের শুধু সংস্কৃতির শেকড়েই টানবে না, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক সহ নানা অপরাধ থেকে যুব সমাজকে ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

চলন নাটুয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন জানান, দ্বিতীয়বারের এ উৎসবে যে-দর্শক সাড়া তারা পেয়েছেন তাতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা যাবে। এসব আয়োজন একদিকে দর্শকদের সংস্কৃতির শেকড়েই টানবে তেমনি বর্তমানের জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্ত হওয়ার পথ থেকে যুবসমাজকে সঠিক পথে আনতে সহায়তা করবে। প্রয়োজন শুধু পৃষ্ঠপোষকতার।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ আয়োজতদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, এক সময় বাংলার আনাচে-কানাচে শীত এলেই যাত্রাগানের আসর বসতো। এক শ্রেণির অসাধু মানুষের কারণে এ শিল্পটি অশ্লীলতায় ডুবে গেছে।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং অপসংস্কৃতির কারণে বর্তমানে এ শিল্পটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। চলন নাটুয়া অশ্লীলতামুক্ত নাটকসহ যাত্রাপালা মঞ্চায়নের মাধ্যমে সুস্থ ধারায় সংস্কৃতিকে আবার ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর এই ধরনের উৎসব আয়োজনের ওপর জোর তাগিদ দিয়ে সহযোগিতারও আশ্বাস দিলেন তিনি।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

সাহিত্য-সংস্কৃতি -এর সর্বশেষ