১ ভাদ্র ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

জালিয়াতির সম্পদ ১০ কোটি


০৯ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৪:০৩  পিএম

নতুনসময়.কম


জালিয়াতির সম্পদ ১০ কোটি

চাকরি নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস তিন কোটি টাকা আয় করেছন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জালিয়াতির বিষয়ে সিআইডি জানায়, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮ তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ূব আলী বাঁধনও অলিপের সঙ্গে জালিয়াতির চক্রে জড়িত। এদের চারজনের প্রায় ১০ কোটি নগদ টাকা ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে তারা। অনুসন্ধানে তাদের সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানা গেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি জালে ধরা পড়েছেন অলিপ। তাকে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রের হোতা বলছে সংস্থাটি।

পাঁচ দিনের অভিযানে জালিয়াতি চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে সিআইডির সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সিআইডির অর্গানাইজড টিমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

বাংলাদেশ কর্ম কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সবচেয়ে বড় চক্রটিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। গত শুক্রবার থেকে টানা ছয়দিনের অভিযানে এই চক্রের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত শুক্রবার থেকে টানা পাঁচদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার হন অলিপ কুমার বিশ্বাস, মোস্তফা কামাল, ইব্রাহিম, আয়ূব আলী বাঁধন, গোলাম মোহাম্মদ বাবুল, আনোয়ার হোসেন মুজমদার, নূরুল ইসলাম, হোসনে আরা বেগম হাসমত আলী।

গ্রেপ্তারের সময়ে তাদের কাছ থেকে বিসিএস পরীক্ষার লিখিত প্রশ্নপত্রের কপি এবং ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে সিআইডি কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি চক্র গ্রেপ্তার করতে অভিযান হয়। পরের দিন শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। এরপর নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী সহ এই চক্রের ২৮ জনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎপাটন করা হয়।

তিনি আরো জানান, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করত। আরেকটি চক্র চক্র পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত।

সিআইডির বিশেষ সুপার বলেন, আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পরো চক্র চিহ্নিত করা গেলেও ডিভাইস চক্রটি বাকি ছিল। ডিভাইস চক্রের প্রধান বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাসের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে তিনি গা ঢাকা দেন। প্রেস বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এনালগভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে তাদের আইনের আওতায় আনা যতটা সহজ কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বনকারী আইনের আওতায় আনা ততটাই জটিল।

গ্রেপ্তার ইব্রাহিমের ছিল বিলাসী জীবন। তার মাধ্যমে ৩৬ তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছে। তিনি ৩৬ লাখ টাকা দামের গাড়িতে চলাচল করত। জালিয়াতির টাকায় খুলনার মুজগুন্নী এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমির উপরে চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। নড়াইলে তৈরি করেছে ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়াও অবৈধ মানিএক্সচেঞ্জের ব্যবসা করতের বলে স্বীকার করেছেন সিআইডির কাছে।

এমএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: