৬ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

জলবায়ু পরিবর্তনে বৃষ্টিহীন রাজশাহী


০৪ জুলাই ২০১৮ বুধবার, ১২:১৬  এএম

নতুনসময়.কম


জলবায়ু পরিবর্তনে বৃষ্টিহীন রাজশাহী

জলবায়ু পরিবর্তনে বৃষ্টি নেই রাজশাহী অঞ্চলে। বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে অদ্যবধি কাংখিত বৃষ্টি নেই এ অঞ্চলে। চাষিরা এই পরিস্থিতিতে বাড়তি খরচে বৃষ্টি নির্ভর আউশ চারা রোপণ করতে হচ্ছে সেচ দিয়ে। এতে মৌসুম শেষ হলেও এই অঞ্চলের আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশংকা দেখা দিয়েছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রনোদনা সহায়তা প্রদান করেছে। কিন্তু এবারে লক্ষ্যমাত্রাপূরণে বাধা হলো কাংখিত বৃষ্টিপাত।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এবারে জেলায় আউশ চাষে লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার হেক্টর ধরা হয়। কৃষি বিভাগের হিসেব মতে আবাদ রোপনের সময় শেষ হলেও কাংখিত বৃষ্টি না হওয়ায় খাতা-কলমে ২৮ জুন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ১৬৯ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে বাস্তবতা কিছুটা হলেও ভিন্ন।

আউশ চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন আউশ চারা রোপণের মৌসুম শেষ। বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের চাষিরা সাধারণত আউশ চারা রোপণ করেন বৃষ্টির পানিতে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষা মৌসুমের পক্ষকাল অতিবাহিত হতে চললেও কাংখিত বৃষ্টির দেখা নেই। এই পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েছেন আউশ চাষিরা। অনেকে পানি না থাকায় চাষিরা সেচ দিয়ে চারা রোপণ করছেন। এতে বিঘায় বাড়তি খরচ পড়ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। ধানের দাম ভালো থাকায় পরে বৃষ্টি হবে এই আশায় চাষিরা সেচ দিয়েই চারা রোপণ করছেন।

পবার কর্ণহার এলাকার চাষি জাইদুর রহমান ও গোদাগাড়ী নবাইবটতলা এলাকার চাষি রবিউল ইসলাম জানান, বিগত বছরে এই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আউশ চারা রোপণে তেমন সমস্যা হয়না। কিন্তু এবার বৃষ্টির দেখা নেই। এদিকে আউশ চারা রোপণের মৌসুমও শেষের দিকে। অনেকে ধানের দাম ভালো থাকায় বাড়তি খরচ করে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছে।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-হেল-কাফি বলেন, এই অঞ্চলে আউশ ধান সাধারণত বৃষ্টি নির্ভর। কিন্তু এবার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও সেভাবে বৃষ্টি হচ্ছেনা। অথচ চারা রোপণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি চাষিদের সেচ দিয়ে হলেও তাড়াতাড়ি চারা রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, এখানে সর্বশেষ ভারি বৃষ্টি হয়েছে গত ১০ জুন ১৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার। এরপর থেকে এই অঞ্চলে শুরু হয়েছে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ। গতকাল পর্যন্ত বৃষ্টিও হয়নি উল্লেখ করার মত। গত ১৫ জুন রাজশাহীতে ছিল মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। চলতি মাসে অবশ্যই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশী উঠেনি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার জেলায় আউশ চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৬৪ হেক্টর। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার হেক্টর। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৪৭ হাজার ৯২৯ হেক্টর। প্রতিকুল আবহাওয়ায় এবার রাজশাহীতে আউশের আবাদ কমে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কৃষি অফিস জানায়, আগামী কয়েকদিন চাষিরা আউশ ধান রোপন করবেন। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

এদিকে জেলায় উফশী ও নেরিকা আউশ চাষে ১২ হাজার ১৫০ জনকে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। উফশী ও নেরিকা আউশ-এ প্রতি বিঘা জমির জন্য প্রত্যেক চাষিকে ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি এবং সেচ বাবদ ৫শ’ টাকা উপকরণ সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়াও নেরিকা ধানের জন্য অতিরিক্ত ৫শ’ টাকা দেয়া হয়।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: