৭ শ্রাবণ ১৪২৪, শনিবার ২২ জুলাই ২০১৭, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

ছেঁড়া দ্বীপে বাদামি চোখের রহস্যময় মেয়েটি!


১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার, ০৯:২৭  পিএম

নতুনসময়.কম


ছেঁড়া দ্বীপে বাদামি চোখের রহস্যময় মেয়েটি!
‘ছেঁড়া দ্বীপ’ থেকে বাদামি চোখের মেয়েটির ছবি তুলেছেন আজিম খান রনি

 

বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণের সর্বশেষ বিন্দু ছেঁড়া দ্বীপ। দক্ষিণ দিকে এরপরে বাংলাদেশের আর কোনো ভূখণ্ড নেই। সেন্ট মার্টিন থেকে বিচ্ছিন্ন ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট কয়েকটি দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে ‘ছেঁড়াদিয়া’ বা ‘সিরাদিয়া’ বলা হয়ে থাকে।

এই ছেঁড়া দ্বীপে রয়েছে হাজারো রহস্য। সাগরের নীল জল দেশের অন্য জেলা থেকে পৃথক করে দিয়েছে সেন্টমার্টিনকে। আবার সেন্টমার্টিনের ভূখণ্ড থেকেও বিচ্ছিন্ন ছেঁড়া দ্বীপ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সাগরের মাঝে ভাসমান একটি বন; কাছে গেলেই দেখা মেলে প্রবাল পাথর আর বালু ঢেউ খেলছে ছেঁড়া দ্বীপে।

ছেঁড়া অর্থ বিচ্ছিন্ন বা আলাদা, আর মূল দ্বীপ-ভূখণ্ড থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন বলেই এ দ্বীপপুঞ্জের নাম ছেঁড়া দ্বীপ। প্রায় তেত্রিশ হাজার বছরের পুরনো একটি প্রবালের ফসিল এই দ্বীপেই পাওয়া গেছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩.৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ৭.৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ছেড়া দ্বীপ যার জনসংখ্যা প্রায় চার হাজার। এই দ্বীপটি প্রায় পুরোটাই সমতল যেখানে শামুকের খোলসের সাথে পানির সাথে বয়ে আসা বালু মিশে থাকে। মূল দ্বীপের সাথে এখানে কিছু পৃথক ছোট চর রয়েছে যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘ছেড়া দ্বীপ’ অর্থাৎ পৃথক দ্বীপ নামে পরিচিত।

দ্বীপের উত্তর অংশে অবস্থিত জলাধারটি না দেখা মানে উল্ল্যেখযোগ্য কিছু দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়া। জোয়ারের সময় জলাধারটি পশ্চিম উপকূলে একটি সরু চ্যানেলের মাধ্যমে সাগরের সাথে যুক্ত হয়।

সেন্টমার্টিন
গবেষকরা এখানে ১৮২ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের সন্ধান পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪ প্রজাতির উভচর, ১৩০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী। শীতকালে এই দ্বীপে প্রচুর অতিথি পাখি এসে থাকে। এতে করে দ্বীপের পারিপার্শ্বিক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

দ্বীপের পূর্ব অংশে সূর্যোদয় দেখে সারাদিন কাটানোর পর দ্বীপের পশ্চিম অংশে সূর্যাস্ত দেখতে পাওয়া যায়। সূর্যাস্ত দেখার স্থানটি মূলত একটি পাথুরে এলাকা। এটি দ্বীপের উত্তর পশ্চিমে সেন্ট মারটিন’স রিসোর্টের কাছেই অবস্থিত।

স্থানটি শুধুমাত্র ভাটার সময় দেখা যায়। ভাটা এবং সূর্যাস্ত একই সময় হলে এটি একটি অনন্য সুন্দর স্থানে পরিণত হয়। এখানকার গ্রামের জীবন অনেকটাই ধীরগতিসম্পন্ন। সকালে ও সন্ধ্যায় এখানকার মানুষ কর্মমূখর থাকলেও দুপুরবেলা এখানকার মানুষেরা মূলত শুঁটকি মাছ ও নারিকেল বিক্রি করে অথবা ছায়ায় বসে পান চিবিয়ে সময় কাটায়।

প্রবাল দ্বীপ ইউনিয়ন সেন্ট মার্টিন্স থেকে ছেঁড়া দ্বীপ প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। দক্ষিণের এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক পাথর। দ্বীপের প্রায় অর্ধেকই জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিতে ডুবে যায়।

এলাকাটি সরকারের ঘোষিত একটি পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা। এরকম এলাকায় ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানায় জমি কেনা, এমনকি কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ। চট্টগ্রাম, পতেঙ্গা বা টেকনাফ থেকে আগে সেন্ট মার্টিন্স-এ যেতে হয়। তারপর ভাটার সময় সেখান থেকে হেঁটেই ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়া যায়। অবশ্য জোয়ারের সময় যেতে হয় লঞ্চে চড়ে।

কীভাবে যাবেন:

টেকনাফ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আরামদায়ক জাহাজ কিয়েরি সিন্দবাদে করে দুই ঘণ্টা অথবা তার চাইতে কম সময়ে সেন্ট মারটিন’স দ্বীপে পৌঁছাতে পারবেন। কিয়েরি সিন্দবাদে যাওয়ার সময় আপনি নাফ নদীর একদিকে টেকনাফের পাহাড় এবং অপরদিকে মায়ানমারের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

কিয়েরি সিন্দবাদ বিকাল ৩টার দিকে সেন্ট মারটিন’স দ্বীপ থেকে ছেড়ে যায়। আপনি কিয়েরি সিন্দবাদে যাওয়া আসাসহ উভয় পথের টিকেট কিনতে পারবেন। আপনি ওইদিনই ফিরে আসতে পারেন অথবা দুই একদিন পরও ফিরতে পারবেন। আপনি যখনই ফিরুন না কেন টিকেটের দাম একই পড়বে।



কীভাবে পৌঁছাবেন কক্সবাজার:

চট্রগ্রাম বিভাগের এগারোটি জেলার অন্যতম বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কক্সবাজার জেলার উত্তরে রয়েছে চট্রগ্রাম জেলা, পূর্বে মিয়ানমার ও বান্দরবান, এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।

ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাসে করে আপনি ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছাতে পারবেন। ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো হলো- গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস আলম পরিবহন, শাহ বাহাদুর, সেইণ্ট মারটিন্স। বাস ভাড়া- শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১৫০০ টাকা, নন এসি ৭০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন:

কক্সবাজারে থাকার ব্যবস্থা খুবই উন্নত। এখানে পাঁচ তারকা মানের বেশ কয়েকটি হোটেলসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন মানের প্রচুর হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। যেমন- হোটেল সীগাল, হোটেল সী প্যালেস, সেইণ্ট মারটিন রিসোর্ট, হোটেল সায়মন, হোটেল সী ক্রাউন প্রভৃতি।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: