২ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

চোর ধরতে নারী পুলিশের প্রেমের ফাঁদ


১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ১২:৩১  পিএম

নতুনসময়.কম


চোর ধরতে নারী পুলিশের প্রেমের ফাঁদ

গা ঢাকা দিয়েছিল চোর। ওই চোরের মন চুরি করে তাকে ফাঁদে ফেলল এক নারী পুলিশ। সেই নারী পুলিশের প্রেমের টোপে পা দিয়ে শেষ পর্যন্ত হাজতবাস হল চুরির দায়ে অভিযুক্ত ওই যুবক। তার নাম আবদুল মণ্ডল। উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া সোনার গয়না, মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিস।

ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ থানা এলাকার ঘটনা।

জানা যায়, আগস্ট মাসের এগারো তারিখ বনগাঁ পূর্বপাড়ার রিনা মণ্ডলের বাড়িতে সিঁধ কাটে চোর। আত্মীয়র বাড়ি থেকে ফিরে তিনি দেখেন, আলমারি ভেঙে সোনার গয়না, নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোর। সঙ্গে একটি মোবাইল ফোনও খোয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। চোরের সন্ধানে নামে পুলিশও। তবে পুলিশেরই একাংশ বলেন, ডাকাত ধরার চেয়ে ছিঁচকে চোর ধরা নাকি ঢের কঠিন। তবে এক্ষেত্রে চোর ধরার একটা সূত্র ছিল। সেটি হল, রিনাদেবীর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মোবাইলটি। তাই সেটিকেই ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ।

ঘটনার তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ দল তৈরি করেন বনগাঁ থানার আইসি। অবশেষে মাসখানেক আগে সন্ধান মেলে চুরি যাওয়া মোবাইলটির। সেটি ট্র্যাক করে পুলিশ তার নম্বরটি জানতে পারে। তারপরই নাটকীয় মোড় নেয় গোটা ঘটনা। ওই চোরকে বাগে আনতে প্রেমের টোপ দেয় পুলিশ।

জানা যায়, এক নারী কনস্টেবল নিজের পরিচয় গোপন করে ওই চোরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রায় এক মাস তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবক আবদুলও নিজের পরিচয় গোপন রেখে ওই পুলিশকর্মীর সঙ্গে খোসমেজাজে গল্প চালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আবদুলকে প্রেমের জালে জড়িয়ে নেন ওই পুলিশকর্মী। মঙ্গলবার আবদুলকে দেখা করতে বলেন তিনি।

উত্তর চব্বিশ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার নারী কনস্টেবলের কথামতো বনগাঁ স্টেশনে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে আবদুল। সেখানেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার থেকে রিনাদেবীর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মোবাইলটিও উদ্ধার হয়।

গ্রেপ্তারের পর চুরির কথা স্বীকার করে আবদুল। তাকে জেরা করে চুরি যাওয়া গয়নারও সন্ধান পায় পুলিশ।

আবদুল জানায়, বনগাঁ স্টেশন সংলগ্ন একটি সোনার দোকানে সেগুলি বিক্রি করেছিল সে। চুরি জিনিস কেনার দায়ে ওই দোকানের মালিক গৌরাঙ্গ সূত্রধরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার ধৃতদের বনগাঁ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেপাজতে নেয় পুলিশ। জেলার পুলিশ জানিয়েছেন, এই মামলায় সাফল্যের জন্য ওই নারী কনস্টেবলকে পুরস্কৃত করা হবে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: