১০ বৈশাখ ১৪২৫, সোমবার ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় একদিনেই ৭ হাজার দর্শনার্থী


১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:১৩  পিএম

নতুনসময়.কম


চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় একদিনেই ৭ হাজার দর্শনার্থী

মাত্র তিন বছর আগেও আর্থিক দৈন্যদশা ছিল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। পশু থাকত অনাহারে। অনেক প্রাণীর খাঁচা থাকলেও তা জীর্ণশীর্ণ। ফলে দর্শক শূন্যতা ছিল প্রকট।

কিন্তু এখন পরিবর্তন এসেছে চট্টগ্রামের একমাত্র এ চিড়িয়াখানায়। প্রতিদিন গড়ে দর্শনার্থী প্রবেশ করছে তিন হাজার। ছুটির দিনে তা বেড়ে হয় সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার পর্যন্ত।

শুক্রবার ছুটির দিনে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থী ছিল সাত হাজার ৪৫ জন। ফলে ঘুচছে আর্থিক দৈন্যতা। ২০১৫-২০১৭ পর্যন্ত তিন বছরে টিকিট বিক্রির অর্থ দিয়েই করা হয়েছে আড়াই কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। যোগ হয়েছে দু’টি বাঘ ও একটি সিংহ। ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আগামী মাসে আসছে ছয়টি জেব্রা।

জানা যায়, বর্তমানে পরিবর্তন আসছে চিড়িয়াখানায়। টিকিট বিক্রির ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় সীমানা প্রাচীর, পশুদের জন্য দেওয়া হয় খাঁচা, আবর্জনার ভাগাড়কে করা হয়েছে নান্দনিক বৈঠকখানা। তিতিরপাখিকে দেওয়া হয়েছে পৃথক ঘর। বানানো হয়েছে সিঁড়ি। ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে প্রধান ফটক। চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়ে ৩২ হাজার ১৬৪ বর্গফুট রাস্তা। পুরো চিড়িয়াখানা আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। বাচ্চাদের জন্য করা হয়েছে ‘কিডস জোন’।

পানির চলাচলের জন্য নির্মিত হয়েছে দীর্ঘ ড্রেইন। পশুর সুরক্ষায় নির্মিত হয়েছে নিরাপত্তা দেয়াল। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে পরিচ্ছন্ন শৌচাগার। চিড়িয়াখানার তাপমাত্রা সঠিক রাখতে লাগানো হয়েছে এক হাজার ফলজ বৃক্ষ। প্রাণীখাদ্য সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে স্টোর রুম, কোয়ারেন্টাইন রুম এবং অপারেশন থিয়েটারসহ আধুনিক প্রাণী হাসপাতাল।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান সাধারণ মানুষের বিনোদন, শিশুদের শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য নগরের খুলশিস্থ ফয়েজ লেকের পাশে ৬ একর জমির উপর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সেখানে ৬৭ প্রজাতির তিন শতাধিক পশু-পাখি আছে। শুরুতে চিড়িয়াখানায় প্রবেশমূল্য ছিল এক টাকা। পরে মূল্য বৃদ্ধি করে প্রথমে ২ টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে ৩ টাকা, ৪ টাকা এবং ৫ টাকা করা হয়। ২০০৪ সালে ১০ টাকা, ২০১০ সালে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: