৪ কার্তিক ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

খানাখন্দ, জলাবদ্ধতাই যেন ৪৫ নং ওয়ার্ডের নিয়তি


০৯ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ১০:০৬  এএম

ইমদাদুল হাসান রাতুল

নতুনসময়.কম


খানাখন্দ, জলাবদ্ধতাই যেন ৪৫ নং ওয়ার্ডের নিয়তি

খানাখন্দে ভরা রাস্তার সঙ্গে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়াই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)’র ৪৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ভোগান্তি এখন চরমে। এই ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানি ও মাদকের সমস্যার কথাও বলেছেন বাসিন্দারা। 

প্রায় আড়াই লাখ বাসিন্দার এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও দীর্ঘদিনের এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে স্থায়ী সমাধানে নিজ প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার কথা বললেন। 

ডিএসসিসির ৪৫নং ওয়ার্ডটি পুরান ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে খ্যাত গেণ্ডারিয়া ও এর আশপাশের কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত। ০.৫৪৩ বর্গ কি. মি. আয়তনের এই ওয়ার্ডের রাস্তার পরিমাণ ৩২.৪৮ কিমি। ওয়ার্ডটিতে ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৩টি খেলার মাঠ ও ১টি কমিউনিটি সেন্টারসহ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের জন্য প্রায় সব ধরনের অবকাঠামোগত স্থাপনা রয়েছে। হোল্ডিং সংখ্যা ২৪০০ হলেও বাসিন্দা প্রায় আড়াই লাখ। 

সরেজমিনে ওয়ার্ডটি ঘুরে দেখা যায়, ৩২ কিমি রাস্তার প্রায় সবখানেই কম-বেশি খানাখন্দ রয়েছে। কোনো রাস্তার মাঝখানে আবার কোনো রাস্তার একপাশে আবার কোনো কোনো রাস্তার প্রায় সবটুকুতেই ভাঙা ও খানাখন্দে ভরা। এ ওয়ার্ডের ডিস্টিলারি রোড, দীননাথ সেন রোড, কেশব ব্যানার্জী রোড (হোল্ডিং-৯২-৯৯), শশীভূষণ চ্যাটার্জি লেন, রজনী চৌধুরী রোড, সাবেক সরাফতগঞ্জ লেন ও সত্যেন্দ্র কুমার দাস রোড রয়েছে। 

৮৮/২ ডিস্টিলারি রোডের বাসিন্দা মো. আরিফ নতুন সময়কে বলেন, জন্ম থেকেই আমি এখানে। এই ওয়ার্ডে অনেক সমস্যাই রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি হলো রাস্তা-ঘাট ভাঙাচোরা। এছাড়া ১৫-২০ মিনিট বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। যা নামতে তিন-চার ঘণ্টা লাগে। আর বৃষ্টি বেশি হলে তো কথাই নেই। 

এ ওয়ার্ডের কমিশনার কার্যালয়টি ৯৯ ডিস্টিলারি রোড, নামাপাড়ায় অবস্থিত। কার্যালয়ে সামনেই মুদি দোকান চালান আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। বলতে গেলে ৬ মাসে একবার ড্রেন পরিষ্কার করে। ফলে একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে এখানে। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে নামাপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে এখানে থাকি। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই দেখি বাড়ির পাশেই মাদকের আড্ডা। এখনো প্রায়ই বসে। আগের তুলনায় আড্ডা কিছুটা কমলেও মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর ওই মাঠে (ধূপখোলা-জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত অংশে) গেলেই দেখবেন কেমন মাদকের আসর। 

সাধনা ঔষধালয়ের গলিতে থাকেন আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, আমাদের এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি। পানিতে সব সময়ই ময়লা থাকে। গ্যাসের চাপ কিছুটা কম থাকলেও তাতে বেশি সমস্যা হয় না।

এ ওয়ার্ডে অবস্থিত মনিজা রহমান বিদ্যালয়ে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন সুমনা হায়দায়। তিনি বলেন, রাস্তার যে অবস্থা, বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই।

কী অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব রাস্তাই ভাঙা। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। তখন ভাঙা রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত মাসেও আমার মেয়ের সাথে পড়ে এমন দুজন রিকশা উল্টিয়ে আহত হয়েছে। 

২০/এ দীননাথ সেন রোডের বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে মশার বেশ সমস্যা। সিটি করপোরেশনের লোক মাসে দু-একবার আসে। নামে মাত্র ওষুধ ছিটিয়ে চলে যায়। ড্রেনগুলো ঠিকমত পরিষ্কার করে না।’ 

ঘুণ্টিঘরে থাকেন আউয়াল মিয়া। পেশায় রিকশাচালক। তিনি বলেন, ‘পানিই আমাদের প্রধান সমস্যা। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢুকে। আবার খাওয়ার জন্য সাপ্লাইয়ের যে পানি কলে আসে তাতে ময়লা থাকে। তাই পানিই আমাদের মূল সমস্যা।’ 

তার কাছে এলাকার রাস্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তা তো এমনই। সবখানেই কম বেশি ভাঙা আছে। বৃষ্টি অইলে সমস্যা অয়। এছাড়া কোনো রকমে চইলা যায়।’ 

এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল কাদির। ওয়ার্ডের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি নতুন সময়কে বলেন, রাস্তাঘাট মোটামুটি ঠিক আছে। ভাঙা-চোরাও আছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তা ভাঙে। ঠিক করা হয়। আবার বৃষ্টি হলে ভাঙে। 

আপনার ওয়ার্ডের বড় সমস্যা কোনটি। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতাই বড় সমস্যা। বৃষ্টি হলেই পানি জমে। কিন্তু এটা তো শুধু এই ওয়ার্ডেও সমস্যা নয়। ঢাকার অনেক এলাকারই মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা। 

জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পানি যেখান দিয়ে বের হবে সেই জায়গাগুলো টিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না। ফলে পানি নামতে না পেরে এখানেই জমে থাকে। 

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। সাময়িক নয় এবার স্থায়ীভাবে এ সমস্যার সমাধান তিনিও চান বলে জানান। 

এলাকার অন্যান্য সমস্যা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ চলছে। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী একটি কমিউনিটি সেন্টার হয়েছে। এছাড়া একটি আধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণের কাজও চলছে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: