৮ কার্তিক ১৪২৪, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১২:০০ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

কাছের মানুষ শাহরিয়ার আলম


১৯ জুন ২০১৭ সোমবার, ০২:০৬  পিএম

উম্মুল ওয়ারা সুইটি

নতুনসময়.কম


কাছের মানুষ শাহরিয়ার আলম

অনেকদিন থেকেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ফেসবুক অ্যাক্টিভিটিজগুলো দেখি। দেশে থাকলে তিনি প্রায় প্রতিটি সাপ্তাহিক ছুটিতে নির্বাচনী এলাকায় যান এবং জনগণের সুখে দুঃখে তাকে অনেক অনুষ্ঠান দিতে দেখা যায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তাছাড়া কূটনৈতিক রাজনীতির পরিধি বিস্তারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পূর্ণমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলস।

আ্ও্য়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত তিন মাস ধরে একটু ধমকের সুরেই দলীয় মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে যেতে বলেছেন। স্থানীয় পর্যায় থেকে গ্রিন সিগন্যাল না পেলে এবার মনোনয়ন দেবেন না এমনও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এবার ধমকের সুরে বললেও বরাবরই তিনি চান স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতারাই যেন জনপ্রতিনিধির টিকেটটা পান।

যাই হোক প্রসঙ্গ শাহরিয়ার আলম। যিনি বরাবরই নির্বাচনী এলাকামুখী। আর এই রাজনীতিকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলোয়ার হয়ে মনে হয়েছে, তিনি শুধু এলাকামুখী নয়। তিনি মানবতাবাদী এবং সত্যিকারের একজন সচেতন মানুষ।

সম্প্রতি গাজীপুরে কন্যার ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা-মেয়ের ট্রেনের নীচে পড়ে আত্মহত্যা এবং এ নিয়ে শাহরিয়ার আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস আমাদের অনেকের টনক নড়িয়েছে। প্রশাসন তটস্থ হয়েছে। শাহরিয়ার আলমের আবেগঘন স্ট্যাটাস কারও কারও চোখ বেয়ে জলের ধারা বইয়ে দিয়েছে। আমার কলম আরও শক্তিশালী হয়েছে। যখন দেখেছি বনানীর রেইনট্রিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর ধর্ষণে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি। কারণ আমি জানি ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক তদবির হুমকি ধামকি দিয়েছেন।

শাহরিয়ার আলম সরকারের প্রতিমন্ত্রী, তাকে নিয়ে এই লেখাটি লিখতে আমার কোথায় জানি হাত বন্ধ হয়েছিলো। আরও আগেই লেখার বিষয়টি মাথায় এসেছে। বনানীর ঘটনায় আমাদের অর্থনীতি পত্রিকায় তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে লিড নিউজের শুরুটা করেছিলাম। ভেবেছিলাম লিখবো। গণমাধ্যম কর্মী এবং সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি নিজেও এমন জনপ্রতিনিধি চাই। রাজনীতিবিদদের প্রোফাইল পড়ে তাদের এই মানবিকতা খুঁজে বেড়াই। আর শাহরিয়ার আলম তো আমার আজকের দেখা রাজনীতিক। তার ভালো দিক নিয়ে লিখলে ক্ষতি? তারপরও হাত রেখেছি বেঁধে।

তবে দেশের প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী মুসাকে নিরাপদে উদ্ধার করতে শাহরিয়ার আলমের ভূমিকা সত্যিই বিরল।গত ১৭ জুন সন্ধ্যা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের অন্যতম পর্বতারোহী মুসা ইব্রাহীম ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতে দুই সহআরোহীকে নিয়ে আটকে পড়েছেন। রবিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় মুসার সহযাত্রী ভারতীয় নাগরিক সত্যরূপ সিদ্ধান্তের স্যাটেলাইট ফোন থেকে পাওয়া বার্তা বলছিল, তারা পরিত্যক্ত কিছু খাবারের সন্ধান পেয়েছেন। সেগুলোই তাদের অমৃতসমান। দুপুরে পাঠানো এক বার্তায় উদ্ধার প্রচেষ্টার জন্য দূতাবাসকে ধন্যবাদও জানান মুসা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলমও ফেসবুকে এ প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি হেলিকপ্টার থেকে মুসা ও তার সঙ্গীদের পাঠানো বার্তা দিয়েছেন। তারা লিখেছেন, অনেক গল্প হয়তো বলা হবে না। এগুলোর কোনও হদিসও থাকবে না। কিন্তু আমাদের হৃদয়ে চিরকাল তা রয়ে যাবে। মুসার বার্তার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, তাদের আর মিনিট দশেক লাগবে সমতলে পৌঁছাতে। সবাই ভালো থাকুন।

আগের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসিয়ান দফতর, বাংলাদেশি দূতাবাস ও ভারতীয় দূতাবাস মুসা ইব্রাহীম ও তার দলকে উদ্ধারের কার্যক্রম তদারকি করছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। হয়তো আমরা বলতেই পারি একজন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন? এই যে বিষয়টি ফিল করা, মুসাকে নিয়ে পুরো দেশের মানুষ যখন  উদ্বিগ্ন তখন সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং এবং সবাইকে আশ্বস্ত করা বিশেষ করে মহাবিপদে পড়ে থাকা মুসা ও তার সঙ্গীদের লোকেট করে উদ্ধার করা ভীষণ আন্তরিকতার কাজ। শাহরিয়ার আলম যে এমন বিষয়ের জন্য যথাযথ তা ঠিকই ধরতে পেরেছেন প্রিয় সাংবাদিক ও অগ্রজ ডিবিসির সম্পাদক প্রণব সাহা। মনে হয় শাহরিয়ার আলম আমাদের মানে এই যে আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদের খুব কাছের।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

usweety75@yahoo.com

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: