৭ কার্তিক ১৪২৪, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

এ বিস্তীর্ণ প্রাচীন ভূখণ্ডজুড়ে


১৩ জুন ২০১৭ মঙ্গলবার, ১০:২৯  পিএম

মঞ্জি খালেদাবেগম

নতুনসময়.কম


এ বিস্তীর্ণ প্রাচীন ভূখণ্ডজুড়ে

অচেনা

কি বিচিত্র এ জগৎ, সেলুকস!
যে মুগ্ধ চোখ
ফেলেনা পলক
এ বিস্তীর্ণ প্রাচীণ ভূখণ্ডজুড়ে,
তাকে আমি চিনতে পারি না।
তবু জেগে রয়
সময় অসময়
ডুবে থাকে কী পরম বিস্ময়ে,
তাকেও চিনতে পারি না।
শুধু মনে হয়
এ আমি নয়
সে আছে অন্য কোনোখানে,
অন্য পরবাসে,
অন্য আভাসে,
বুকের গভীরে এক অচিন প্রেম বোনে।


চোখ

কত শান্ত অথচ
কত ক্রুর এই ঝড়,
জলের প্রবাহ ভাঙে ধীরে,
ঘাসে ছাওয়া শক্ত পাড়ের
তলদেশ ক্ষয়ে যায়, ক্ষয়ে যায়
কী নীরবে ক্ষয়ে দেয় ক্রমে।
অবশেষে ধ্বসে পড়ে একদিন
সবটুকু ঘিরে-
নেমে আসে জলের বুকেই,
শুধু এক নীলাকাশ,
দুটুকরো মেঘের তলায়
আশ্চর্য চোখ!
বয়ে আনে অশান্ত ভয়াল কী অমোঘ!
অকালবৈশাখী ঝড়!

 

 

তীব্রতায় ডুবে যায়

কতদিন কেটে গেছে
গুণে রাখা যায়নি সেসব,
এখন আধেক দিন
মেঘেরাই লিখে রেখে যায়
পাতায় পাতায়।
পাতাখসা শেষ হলে
শিশিরের বুকে জমে
তুষারের আকাঙ্ক্ষা নিশ্চল
তবু সেই স্বপ্ন তার
অন্য আকাশ জমায়।
ভালোবাসা ততোধিক
তীব্রতায় ডুবে যায়
বুকের গভীর রক্তপাতে
ছায়াখানি ফেলে রাখে
জলশূন্য পাথুরে চরায়।
তুমি ছুঁয়ে দিলে পাথুরে চরাও
জলসত্র হয়ে প্রাণ পায়,
আমার বাউল হৃদয়।



আগুন

কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী
জ্বলে ওঠো বিদ্রোহে,
এসো, ঝোড়ো তাণ্ডবে
খাক করে দিই ধর্মের ধ্বজা সব,
এসো, খুনে লাল হয় যে আকাশ
সেথা করি বহ্নূৎসব।
এসো, নিভে যাওয়া সেই
মশাল জ্বালিয়ে
মিছিলেই হেঁটে যাই,
এসো, রক্তদলিত পথ পার হয়ে
জীবনের গান গাই।



আদর

পাতার গভীর থেকে
নেমে আসে যে নামের ভার
তাকে লিখে রাখা বড় কষ্টকর।
তথাপি একবুক জল আর মেঘ
গড়াবে তো সেই নদীতেই-
জলের শরীর থেকে উঠে
বহুদূর পথ পার হয়ে
রক্তচক্ষু উন্মাদিনী মেয়ে,
ঘরে টেনে এনে বেঁধে রাখে,
খলখল হেসে জল বলে,
পাগলী, এই নে আমার আদর।
ব`লে তুমুল জলস্রোতে
ভাসায় সমগ্র ঘরদোর-
পাগলী গলে যায়,
পড়ে থাকে কাঠ আর খড়।

 

 

স্বীকারোক্তি

আমি লিখতে পারি না, আমার কাছে জোরালো শব্দবন্ধ নেই। নেই ছন্দের কারুকৃতি।
আমি লিখতে পারি না কারণ আমি জটিল ভাবে ভাবতে পারি না।
আমি লিখতে পারি না কারণ আমি মাটির বুকে, নদীর বুকে, ঘাসের বুকে কান পাতি না।
আমি ঘাসফড়িংএর সংসার দেখি না কখনো।
পাতার বুকের ধুলোজমা দেখি না আনমনে।
জলফড়িংএর জলছুঁয়ে পাখা নাড়া দেখি না কোনোদিন।
বৃষ্টিফোঁটার নৃত্যনাট্য দেখি না গোষ্পদের জলটুঙ্গিতে।
আমার লেখা লেখা হয়ে উঠতে পারে না, কারণ আমি চাষার হাড়জাগানো বুকের খাঁচার ধুকপুক শুনিনি খরারকালে।
হাটে হাটে ফসলের দাম ওঠা পড়ায় তার কোটোরগত চোখ বিস্ফারিত হয়। জানি না তা কেমন!
জানি না কোন ভীষণ মুহূর্তে সে ফাঁস জোগাড়ে মাতে!
আমি ছুটতে পারি না ধর্ষণের আগে ধর্ষিতাকে বাঁচাতে অথবা দুহাত আগলে বাঁচাতে পারি না পিতাসহ কন্যাকে!
আমার লেখা আগুন হয়ে ওঠে না। একটা মশাল দূর-একটা ফুলকিও জ্বালতে পারে না। তবে লিখে কী হবে?
এতো হাহাকার, মৃত্যু, রক্তস্রোত আমাদের আগুন নিভিয়ে দিচ্ছে।
ঐ অশিক্ষিত শাসকদল উন্মাদ! কলমের জোরকে আর বোঝে না। গবেট, গাধার দল লেখাকে অট্টহাস্যে উড়িয়ে দেয়। মান, অপমান বোধের ধার ধারে না। তাই আর লিখতে চাই না।
একবার, শুধু একবার ওদের বোধগম্য ভাষায় গর্জে উঠতে চাই।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: