২ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার ১৮ আগস্ট ২০১৭, ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

ঈদের পোশাক পেয়ে আনন্দে কাঁদলো এতিম শিশুরা


১৭ জুন ২০১৭ শনিবার, ০৩:২৮  পিএম

নতুনসময়.কম


ঈদের পোশাক পেয়ে আনন্দে কাঁদলো এতিম শিশুরা

অবশেষে ঈদের অনাবিল আনন্দ নিয়েই বাড়ি ফিরছে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া সদর ইউনিয়নের বাছট গ্রামের এতিম শিশুরা। স্থানীয় বাছট-বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার শিশুদর জন্য ঈদের নতুন পোশাক উপহার দিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম।

ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক পেয়ে যেনো আনন্দ ধরে না ছোট্ট শিশুদের। একজন আনন্দে কেঁদেই ফেললো।

নিজের ঈদ বোনাসের টাকার একটি বড় অংশ পরিবারের কেনাকাটায় ব্যয় না করে এতিমখানার এতিম ও দরিদ্র শিশুদের জন্য দান করলেন গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি শেখ নাজমুল আলম।

সম্প্রতি মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক স্কুলশিক্ষক একেএম ফজলুল হকের ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজানকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে বড় অংকের টাকা হস্তান্তর করেন তিনি। একই সঙ্গে টাকায় শিশুদের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে বলেন মিজানকে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদে ডিসি নাজমুলের বাবা মরহুম শেখ আব্দুল জলিল ও মা মরহুমা আশরাফুন্নেসার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পবিত্র কোরআন খতম এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতার শেষে মাদরাসার মোহতামিমকে গোয়েন্দা কর্মকর্তার দেয়া ঈদ উপহার হস্তান্তর করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু।

অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ছাড়াও মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদরাসা ও এতিমখানায় পড়ছে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার তুক্কিরপাড় গ্রামের আবুল মতিনের ছেলে জাসিম উদ্দিন। ঈদের নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলল সে। বলল, আমাদের বয়সী ছেলেরা নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজ পড়তে যায়। কিন্তু আমরা বেশির ভাগ সময় পুরান কাপড় পরেই নামাজ পড়ি। কারণ আমার পরিবার খুব গরিব। এবার আমরাও নতুন পোশাকে ঈদ করবো, ইনশাল্লাহ। এটি খুব আনন্দের।

ত্রিশাল উপজেলার জাইয়ার পাড় গ্রামের আব্দুল বারেকের শিশু ছেলে ও মাদরাসার ছাত্র ইলিয়াস আহম্মেদ বলল, মাদরাসা ছুটি হলে মানিকগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার বাস ভাড়াই আমার পরিবার দিতে পারে না। তাই ঈদের পোশাক পাবো, সেটা আশাই করিনি। কিন্তু আজ নতুন পাজামা-পাঞ্জাবি পেয়েও বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এটা স্বপ্ন।

মাদরাসার সহ-সভাপতি শামসুর রহমান পিন্টু বলেন, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মূলত মাদরাসার মোহতামিমের বেতন থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কাজের যাবতীয় খরচের বেশির ভাগই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা একেএম ফজলুল হক একাই বহন করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করে বিছানায় পড়ে যাওয়ার পরে মাদরাসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই।

তিনি বলেন, টাকার অভাবে মাদরাসার উন্নয়ন তো দূরের কথা, শিক্ষকের মাসিক বেতন দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে এখন। গরিব এলাকা হওয়ায় স্থানীয়দের ইচ্ছে থাকলেও ছাত্রদের লজিং রাখা ছাড়া তারা খুব বেশি আর্থিক সাহায্য করতে পারছেন না। তাই কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান যদি আমাদের মাদরাসার আর্থিক দায়িত্ব নিতেন তাহলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার আশাঙ্কা থাকতো না।

পুলিশ কর্মকর্তা নাজমুল আলম এর আগেও বাছট-বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার শিশুদের জন্য শীতের কম্বল এবং ঈদে নতুন পোশাক কিনে দেন। এমনকি মাদরাসার জন্য একটি অজু ও গোসলখানাও নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি।

শেখ নাজমুল আলম বলেন, নিজের বেতনের টাকা থেকে প্রতিমাসে অল্প অল্প জমিয়ে এসব করে দিয়েছি আমি।

তিনি বলেন, দেখুন আমি সরকারি চাকরি করি। জীবিত অবস্থায় আমার আব্বা ও আম্মা সবসময় এতিম এবং অসহায় শিশুদের জন্য সাধ্যমত সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাছাড়া আমার স্ত্রী ও সন্তানরাও নিজেরা বিলাসিতা না করে, সেই টাকা দিয়ে সমাজের জন্য ভালো কিছু করার তাগিদ দেয় আমাকে।

সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, মাদরাসাটি গাজীখালী নদীর সাথেই। টিনের ঘরে কনকনে শীতে শিশুদের খুব কষ্ট হয়। আবার গরমকালেও তীব্র গরমে টিনের তাপে থাকা যায় না। কিন্তু মাদরাসা তহবিলে টাকা না থাকায় বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করতে পারছি না। তাই কেউ যদি মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণে আমাদের আর্থিক সাহায্য করতেন, তাহলে খুব উপকার হতো।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: