৭ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

ঈদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত


১৯ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার, ১২:১১  পিএম

নতুনসময়.কম


ঈদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে হাজারো উচ্ছ্বসিত দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদচপরনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়কাটা।

রোববার থেকে সরকারি ছুটি শেষ হয়ে গেলেও কমেনি কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সাগরকন্যা পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। খালি নেই কোনো হোটেল, মোটেল ও কটেজের কক্ষ। খাবার দোকান, শুঁটকি পল্লী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বাহারি দোকানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখনো পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।

সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সমুদ্র সৈকত সাগরকন্যা কুয়াকাটা। প্রকৃতি আর সমুদ্রপ্রেমী মানুষের প্রিয় স্থান। রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরিতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতটি। কর্মব্যস্ত একঘেয়ে ক্লান্ত জীবনে একটু বৈচিত্র্য আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে অবসর সময় কাটাতে ঈদ-উল-ফিতরকে ঘিরে বাড়তি ছুটি নিয়ে অনেকেই ছুটে আসেন প্রকৃতির নিপুণ হাতে সাজানো সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে।

রোজার শুরু থেকে টানা ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে ঈদের আগের দিন থেকেই পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটার এ সমুদ্র সৈকতটি। সূর্যোদয়ের আগেই পর্যটকরা দল বেঁধে ছুটতে থাকে সৈকতের দিকে। উপভোগ করে সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য। এরপর দিনভর চলে সি-বিচ, ইকোপার্ক, নারিকেল বাগান, ঝাউ বাগান, বৌদ্ধবিহার, মিশ্রীপাড়ার বৌদ্ধমূর্তি, শুটকি পল্লী, লেবুবন, রাখাইন মহিলা মার্কেটসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণ এবং শেষ বিকেলে উপভোগ করেন সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য। এ সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা সবারই একই কথা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাগরের নীল ঢেউ, একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য উপভোগ করা সত্যিই অসাধারণ।

ঈদের ছুটিকে ঘিরে কুয়াকাটার গেস্ট হাউজ, হোটেল, মোটেল কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নেই কোনও ছিট খালি। আগাম বুকিং হয়ে গেছে পর্যটনকেন্দ্রের সবগুলো গেস্টহাউজ ও হোটেল-মোটেল।

ঢাকার উত্তরা থেকে আসা গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘আমি এই প্রথম এসেছি কুয়াকাটায়। এ সমুদ্র সৈকতটি অনেক সুন্দর, অনেক নয়নাভিরাম দৃশ্য রয়েছে যা দেখার মতো। সময়-সুযোগ হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আবার আসব এখানে।

ঢাকার ডেমড়া থেকে আসা মো. মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ সমুদ্র সৈকতটি অনেক সুন্দর, উপভোগ করার মতো। তবে এ পর্যটন এলাকাকে আরও উন্নত করতে হবে। যাতে পর্যটকরা এসে কোনও ভোগান্তিতে না পড়েন’।

কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে দিনদিন কুয়াকাটায় বাড়ছে পর্যটক। ঈদের ছুটিকে ঘিরে এরইমধ্যে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-কটেজ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। আবহাওয়া খারাপ না হলে এভাবে আরও এক সপ্তাহ ভিড় থাকবে’।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. খলিলুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পিডি

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: