২ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার ১৮ আগস্ট ২০১৭, ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

ই-টিআইএন ছাড়া আর্থিক সেবা নয়


১৯ জুন ২০১৭ সোমবার, ০৮:৫১  এএম

নতুনসময়.কম


ই-টিআইএন ছাড়া আর্থিক সেবা নয়

সেলফোনে টাকা রিচার্জ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্সি স্বল্পপুঁজির মানুষের জনপ্রিয় ব্যবসা। সারা দেশেই বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সরবরাহে এজেন্সি বা শোরুমকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব আর্থিক সেবা প্রদানকারীদের হিসাবের মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছর থেকে সব ধরনের আর্থিক সেবায় ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকারী নম্বর (ই-টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ই-টিআইএন ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কমিশন ব্যয় গ্রহণ করবে না এনবিআর।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১৮৪(এ) ধারা সংশোধন করে আর্থিক সেবা ও কমিশন ব্যবসায় ১২ অংকের ই-টিআইএন নম্বর নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনবিআরের একজন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তার কাছ থেকে এ সনদ নিতে হবে। তবে সনদ নিলেও করযোগ্য আয় না হলে প্রতি বছর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত করজাল বিস্তৃতি ও আর্থিক সেবাকে কমপ্লায়েন্সের মধ্যে আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান এনবিআর কর্মকর্তারা।

এনবিআরের প্রথম সচিব (করনীতি) শব্বির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যার অনুপাতে টিআইএনধারীর সংখ্যা অনেক কম। চলতি অর্থবছর স্থায়ী চাকরিজীবীদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক করায় এখন পর্যন্ত নতুন করদাতার সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক সেবা খাতকে কমপ্লায়েন্সের মধ্যে আনতেই ই-টিআইএন নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। নতুন এ বিধানের মাধ্যমে করের পরিধি অনেক বাড়বে বলে আমাদের বিশ্বাস।

নতুন বিধান অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে রিচার্জ থেকে কমিশন নেন, এমন ব্যবসায়ীদের আগামী অর্থবছর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ই-টিআইএন নিতে হবে। যারা মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে অর্থ লেনদেন করেন, তাদের জন্যও ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক। সারা দেশে নিজেদের পণ্য বিক্রির জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ডিস্ট্রিবিউটর বা এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হলে তাদের ক্ষেত্রেও ই-টিআইএন প্রদর্শন করতে হবে। একজন ব্যক্তি যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পরামর্শ ফি গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রেও ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে খাবার সরবরাহ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসেবা, জনবল সরবরাহ ও নিরাপত্তাসেবা (সিকিউরিটি সার্ভিস) দানের ক্ষেত্রেও।

আইন সংশোধন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি সব ধরনের মোবাইল রিচার্জের এজেন্টদেরও ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ই-টিআইএন নেয়া। পাড়ামহল্লার এসব ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও এজেন্টের ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করাকে নিজেদের জন্য হয়রানি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী ও সেলফোন অপারেটররা একে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবেই।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিকাশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল কাদির বলেন, ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে বিকাশসহ সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টদের ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে তাদের স্বচ্ছতা অনেক বাড়বে। ই-টিআইএন নিলেও করযোগ্য আয় না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীকে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তাই ব্যবসায়ীদের এতে আশঙ্কার কিছু নেই।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: