৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

ইউটিউবে বাঙালির ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই


১৮ জুন ২০১৭ রবিবার, ১১:১৬  এএম

নতুনসময়.কম


ইউটিউবে বাঙালির ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই

‘ভালো হচ্ছে না, ভালো হচ্ছে না, শুনতে শুনতে হঠাৎ একদিন কানে এলো ভালো হচ্ছে, চালিয়ে যাও। এরপর কি আর থেমে থাকা যায়। সব হতাশা ঝেড়ে শুরু করলাম নতুন পথ চলা। নিজেকে বললাম, আমিও পারবো।’ কথাগুলো বলছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা তৌহিদ আফ্রিদী। নতুন সময়কে শোনালেন তার তারকা হয়ে উঠার গল্প। লিখেছেন রাহাত হুসাইন।

হাতির ঝিলের পাশেই তৌহিদের কাচ ঘেরা চেম্বার। সেখানে বসে কী যেন আনমনে ভাবছিলেন। দেখতেই চেয়ার দেখিয়ে বললেন, বসুন। শুরু হলো আলাপচারিতা। বলছিলেন, ‘আমি ইউটিউব নিয়ে প্রচুর লেখাপড়া করি। প্রচুর নেট ঘাঁটি। অন্য ইউটিউবাররা কি করছে, তাদের কাজ দেখি। আসলে শেখার কোনো শেষ নেই। জানতে হলে শিখতে হবে। আর একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে দর্শক কখন কী চাইছে।’ 

তৌহিদ বলতে লাগলেন, ইউটিউব এত বড় প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে মানুষকে অনেক শিক্ষা দেয়া যায়। আর আমি সে কারণে এখন ভালো কাজ করতে চাই ইউটিউবে। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। টাকা উপার্জনের জন্য ইউটিউবে কাজ করছি না।

ইউটিউবের মাধ্যমে কিভাবে মানুষের জন্য কাজ করবেন এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, লক্ষ্য একটাই, ভালো কিছু করা। দেশের তরুণ প্রজন্মকে ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করতে উৎসাহ দেয়া। যাতে তারা মাদক-জঙ্গিবাদ হতে দূরে থাকে। বেকার থাকা থেকে সরে আসতে পারে। বেকার তরুণদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি জানি কাজ করতে গেলে অনেক মানুষ অনেক কথা বলবে কিন্তু সেগুলো না শুনে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মানুষ ইউটিউব থেকে মিডিয়াতে যেতে চায় কিন্তু আমি মিডিয়া থেকে ইউটিউবে এসেছি।

তৌহিদ

ইউটিউবে সফলতার বিষয়ে জানালেন, একজন ইউটিউবার হিসেবে সফলতা তখনই হবে যখন আপনাকে লাখ লাখ মানুষ চিনবে। লাখ লাখ মানুষের কাছে কাজের প্রশংসা পাওয়া যাবে। কাজ করলে ফল পাওয়া যায় তা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। ইউটিউবে কাজ করে আয় করতে হলে টিম ওয়ার্ক করতে হয়।

নিজের শুরুর গল্পটাও জানালেন তৌহিদ। বললেন, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারিতে ইউটিউবে তৌহিদ আফ্রিদী  নামে একটি চ্যানেলের কার্যক্রম শুরু করি। মূলত ২০১৬ সালের শেষ দিকে নতুন উদ্যোগে শুরু করি। যখন চ্যানেল শুরু করি তখন একটি ভিডিও আপলোড দিই। অনেকেই ইউটিউবে ভিডিও আপ করছে তাই আমিও করি। তেমন খুব একটা ভিউ হয়নি। প্রথম ভিডিওতে আমার চ্যানেলে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়। তখন অনেকে প্রেরণা দিত। ইউটিউবে কাজ করছি বলে অনেকে কথা বলত। বলতে পারেন এভাবেই আমার শুরু। তখনও আমি ইউটিউব নিয়ে সিরিয়াস ছিলাম না। সিরিয়াস হই ২০১৬ সালে যখন ওয়ার্ল্ড ট্যুরে যাই। তখন আমার ৫ হাজার সাবস্ক্রাইবার। দেশে ফেরার পর আমি ‘বাংলাদেশি ৪২০’ নামের একটি ভিডিও আপ করি। এরপরই আমার চ্যানেলে ১৪ হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ইউটিউবে সবার প্রথম আমি ও সালমান মুক্তাদির ভাই ননস্টপ প্র্যাঙ্ক ভিডিও নিয়ে কাজ শুরু করি। যখন কাজ শুরু করেছিলাম তখন দেশের অনেকে ননস্টপ প্র্যাঙ্ক বুঝতোই না। এখন দর্শকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে প্র্যাঙ্ক ভিডিও। 

স্বপ্ন পূরণে বাবা-মা’র ভূমিকা নিয়েও কথা বললেন, বাবা চেয়েছিল পাইলট বা আর্মি’র কোনো বড় অফিসার হিসেবে আমি প্রতিষ্ঠিত হই। যখন তিনি দেখেছেন আমার এইসবে কোনো আগ্রহ নেই তখন তিনি আমাকে আমার মতো করে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিয়েছেন। শুরু থেকেই আগ্রহ মিডিয়াতে আর সে কারণেই আমার নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে ভর্তি হওয়া। আমি অনেক কিছু ট্রাই করেছি কিন্তু কোনোকিছুই আমাকে টানে না। নাটক, উপস্থাপনা করেছি কিন্তু আমি নিজের কাছে খুশি হতে পারি না। 

পরিবারকে সময় দেওয়া হয় কি এমন প্রশ্নের জবাবে তরুণ ইউটিউবার জানালেন, বাবা সব সময় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তার সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না। তিনি ব্যবসা ও টেলিভিশনের কাজে অনেক সময় দেশের বাইরে থাকেন। অন্যরা তাদের বাবা-মাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে পারলেও আমি তেমনটা পারি না। তবে বাবার সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমাকে উৎসাহ ও প্রেরণা দেন।    

বাঙালিদের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কতটা কাজ করছেন এ প্রশ্নর উত্তরে তৌহিদ বলেন, ইউটিউবের মাধ্যমে বাঙালিদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পজেটিভ দিকগুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা তুলে না ধরলে বিশ্ববাসী বাংলাদেশ সম্পর্কে নেগেটিভ চিন্তা করবে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: