৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার ২১ আগস্ট ২০১৭, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আম রপ্তানি নিয়ে হতাশায় চাষিরা


১৬ জুন ২০১৭ শুক্রবার, ০৪:৩৩  পিএম

রাজশাহী করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


আম রপ্তানি নিয়ে হতাশায় চাষিরা

 

দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হবে উত্তরাঞ্চলের আম। এমন আশায় বুক বেধেছিলেন আম চাষিরা। তাদের স্বপ্ন পূরণে অল্প পরিসরে কয়েক বছর ধরে ইউরোপে আম রপ্তানিও শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের আম অন্যসব দেশের চেয়ে সুস্বাদু হওয়ায় বেশ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছিল। দেশি-বিদেশি অনেক রপ্তানিকারক যোগ দিচ্ছিলেন।

কিন্তু বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে জটিল প্রক্রিয়ার কারণে আম চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। গত বছর ২০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হলেও চলতি বছর রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিকটন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৬ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে শিবগঞ্জেই ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এর মধ্যে নিরাপদ, রপ্তানিযোগ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত আম উৎপাদন হবে প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ২০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হলেও এবার বেশি হওয়ার আশা করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হবে কি-না তা বলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

গত বছর রপ্তানিকারকরা নির্ধারিত ও তালিকাভুক্ত আমবাগান মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি কীট ও বালাইনাশকমুক্ত আম বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেছিল। এবার নানান জটিলতার মুখে পড়েছেন আম ব্যবসায়ীরা।

একাধিক আম রপ্তানিকারক বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের তালিকাভুক্ত আমচাষিদের বাগান থেকে প্যাকেট করা ও রপ্তানিযোগ্য ও নিরাপদ আমের মধ্যে রপ্তানিকারক বাছাই করে চাষিদের প্রায় ৬০ ভাগ বাদ দিয়ে ৪০ ভাগ ঢাকায় শ্যামপুরে সেন্ট্রাল প্যাকিং সেন্টারে রপ্তানির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবার বাছায়ের নামে আমের ওপর সামান্য দাগ থাকায় বাদ দিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মধ্যে পড়ছেন রপ্তানিকারকসহ বাগান মালিকরা। সবমিলিয়ে জটিলতা ও শর্তের কারণে গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।

সুইডেন থেকে এক মাস আগে বাংলাদেশের নাচোলে এসেছিলেন দোজা নামের এক ব্যবসায়ী। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, গত বছর থেকে বাংলাদেশের আম সুইডেন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২৮ মেট্রিক টন রপ্তানি করা হয়েছিল। চলতি বছর এর দ্বিগুণ রপ্তানি করার পরিকল্পনা নিয়ে দেশে এসেছিলেন তিনি। চলতি বছর ইউরোপে আম পাঠাতে বাংলাদেশের নতুন করে শর্ত আরোপ করে। এবার ক্যারেটে করে কৃষি বিভাগের ঢাকার শ্যামপুর প্ল্যান করেন্টাইন উইংয়ে নিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় বাছাই। আর বাছায়ের নামে চলে অযাচিত হয়রানি। সে কারণে তিনি এবার আম রপ্তানি না করে গত সপ্তাহে সুইডেন ফিরে যান।

চাঁপাইনাবাবঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকার একজন আম রপ্তানিকারক জানান, কয়েকদিন আগে চাষির বাগান থেকে রপ্তানির জন্য ঢাকার শ্যামপুরে সেন্ট্রাল প্যাকিং সেন্টারে ৭৯০ কেজি আম নিয়ে যাওয়ার পর ৪০০ কেজিই বাদ দিয়ে দেয় সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা। অথচ এসব আম গতবারের চেয়ে আরো বেশি ভালো ছিল। বাদ দেয়া সে আমগুলো নিয়ে মহাবিপাকে পড়তে হয়েছিল।

শিবগঞ্জ এলাকার কয়েকজন তালিকাভুক্ত আমচাষি বলেন, গতবারের চেয়ে এবার রপ্তানির লক্ষ্যে অনেক বেশি আকারে আম উৎপাদন করেছে চাষিরা। এবার আম নেয়ার ক্ষেত্রে যেসব শর্ত ও বিবরণ দিচ্ছে তাতে আম দিলে অনেক লোকসান ও ক্ষতির মধ্যে পড়তে হবে। যেসব আম চাইছে তা দেয়ার পর নব্বই ভাগই বাদ পড়ে যাবে। এসব আম স্থানীয় ক্রেতাদেরও কেনার সামর্থ্যের বাইরে। তাহলে এই নব্বইভাগ নিয়ে চাষিদের পড়তে হচ্ছে লোকশানের মুখে।

আমচাষিরা অভিযোগ করেন, রপ্তানিকৃত আমের মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া ও লক্ষ্মা পেঁকে গেছে। ৪/৫ দিনের মধ্যে রপ্তানির জন্য শিথিলতা করে না দিলে পচে সব শেষ হয়ে যাবে। এবার রপ্তানিযোগ্য করার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে ম্যাংগো প্রটেকশন ব্যবহার করায় অনেক বেশি খরচও হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের করেন্টাইন সংগনিরোধ কীটতত্ব বিভাগের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন খান জানান, নিয়ম মেনেই আম যাচাই-বাছাই করেই আম বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর ২৮৮ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছিল। চলতি বছর কত মেট্রিকটন হবে সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: