৪ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আমৃত্যু বিপ্লবী চে গুয়েভারা


০৯ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ০৯:৫৫  এএম

নতুনসময়.কম


আমৃত্যু বিপ্লবী চে গুয়েভারা

চে গুয়েভারার নাম শুনলেই চোখে ভাসে একজন রোমান্টিক-বিপ্লবীর অবয়ব। ১৯৬৭ সালের এ দিনে তাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু দশকের পর দশকজুড়ে চে হয়ে রয়েছেন তারুণ্যের প্রতীক। যে তরুণ স্বপ্ন দেখে, যে তরুণ সবার জন্য সমান একটি পৃথিবীকে আলিঙ্গন করতে চায়, তার সবচেয়ে বড় অবলম্বন চে। 

বিপ্লবী চে গুয়েভারার জন্ম ১৪ জুন ১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায়। ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ায় তাকে আহত অবস্থায় আটক করে হত্যা করা হয়। কিউবা বিপ্লবের মহানায়ক চে গুয়েভারার আজ (সোমবার) ৫০তম মৃত্যুদিবস। বিপ্লবের অগ্নিপুরুষ হিসাবে, গেরিলা নেতা হিসাবে বিশ্বজুড়ে তার নামই ধ্বনিত হয়।

হাঁপানি ছিল চে গুয়েভারার নিত্যসঙ্গী। এই রোগের কারণে প্রথম দুই বছর স্কুলে যেতে পারেননি, পড়াশোনা করেছেন বাড়িতে বসে। সারা জীবন তিনি এই রোগ বয়ে বেড়িয়েছেন। 

আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবী মাত্র ১১ বছর বয়সে এক বিচিত্র কারণে কিউবার প্রতি অনুরক্ত হন। কিউবার দাবা খেলোয়াড় কাপাব্লাংকা এসেছিলেন বুয়েনস এইরেসে। চে ছিলেন দাবার দারুণ ভক্ত। কাপাব্লাংকার আগমন তাকে কিউবা সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেছিল। 

মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই বইয়ের সাগরে বুঁদ হয়ে থাকতে পেরেছেন চে। বাড়িতে ছিল কয়েক হাজার বই। তাই বইয়ের সঙ্গে মিতালি পাতাতে কোনো সমস্যাই হয়নি তার। কবিতা পছন্দ করতেন তিনি। নিজেও লিখতেন কবিতা। 

বিজ্ঞানের প্রতি দারুণ আকর্ষণ ছিল তার। বিশেষ করে গণিত ছিল তার প্রিয় বিষয়গুলোর অন্যতম। কিন্তু পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানকে।

চে`র বিল্পবী হয়ে ওঠার গল্পটিও তার জীবনের মতোই বিচিত্র। মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পথে, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন দক্ষিণ আমেরিকার মানুষের দুঃখকষ্ট। কিছু একটা করতে হবে তাদের জন্য। 

এরপরের গল্প বদলে যাওয়ার। ১৯৫৬ সালে মেক্সিকোতে পরিচয় বিপ্লবী ফিদেল ক্যাষ্ট্রোর সঙ্গে। ১৯৫৯ সালে সফল বিপ্লবের পর কিউবায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এ বিপ্লবী। 

বিপ্লবকে ছড়িয়ে দিতে হবে গোটা ল্যাটিন আমেরিকায়, ছাড়লেন কিউবা, ছাড়লেন পরিবার পরিজন। বলিভিয়া যুদ্ধে প্রাণপন লড়াইয়ের পরও ধরা পড়লেন শত্রুর হাতে। বন্দি অবস্থায় সামরিক জান্তা গুলি করে হত্যা করে এ বিপ্লবীকে। 

মৃত্যের আগ মুহুর্তেও মাথা নত করলেন না। বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে ঘাতককে বলেন, ‘আমাকে মারতে পারো, তবে আমার স্বপ্নের কোনো মৃত্যু নেই।’

এতো বছর পরও মৃত্যুহীন চে। তার বিপ্লবী চেতনা আজও বিশ্বজুড়ে কোটি প্রাণে জাগিয়ে রেখেছে সাম্যবাদের আশার আলো।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: