৭ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮, ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আমি ধর্ষণের শিকার হতে পারি


১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ০৫:৫৪  পিএম

নতুনসময়.কম


আমি ধর্ষণের শিকার হতে পারি

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়ায় মন্দিরে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ৮ বছরের শিশু আসিফার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু মুসলিমরা সন্দেহভাজন ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

এদিকে, সোমবার (১৬ এপ্রিল) শিশু আসিফার পরিবারের আইনজীবী দীপিকা এস রাজাওয়াত এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় নিজের প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আইনজীবী দীপিকা এস রাজাওয়াত বলেন, তিনি শঙ্কায় আছেন যে তাকে ধর্ষণ অথবা খুনের শিকার হতে পারেন।

‘আমি জানি না কতদিন বেঁচে থাকবো। আমি ধর্ষিত হতে পারি...আমার সম্ভ্রম হানি করা হতে পারে। আমি খুন হতে পারি, আমাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হতে পারে। গতকাল আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, আমরা তোমাকে ক্ষমা করবো না।

আমি সুপ্রিম কোর্টকে এসব হুমকির ব্যাপারে জানাতে যাচ্ছি। পরে সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট জম্মু-কাশ্মিরের সরকারকে কাঠুয়ার ওই মুসলিম পরিবার ও তাদের আইনজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার সকালের দিকে নিহত শিশু আসিফার বাবা ধর্ষণ ও হত্যার ওই মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে চন্ডিগরে স্থানান্তরের আবেদন জানান। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য-সহ তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানান।

আইনজীবী রাজাওয়াত বলেন, ‘কাঠুয়ায় এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই।’

কাশ্মিরের শিশু আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুরো ভারত জুড়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কয়েকদিন ধরে টানা বিক্ষোভ করেছেন তারা। সোমবার আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে মুসলিম যাযাবর বাখেরওয়াল সম্প্রদায়ের শিশু আসিফাকে অপহরণ করে কাশ্মিরের ছয় দুর্বৃত্ত। এদের মধ্যে একজন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা, দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ক্ষুদে এক যুবক তাকে কাঠুয়ার একটি মন্দিরে আটকে রেখে চেতনানাশক খাইয়ে ছয়দিন গণধর্ষণ করে। ভয়াবহ এ কাজে মন্দিরের দুই নিরাপত্তা রক্ষীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনা থেকে অপরাধীদের বাঁচাতে পুলিশের আরো দুই কর্মকর্তা ঘুষ নেন। জম্মু-কাশ্মির সরকার আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের দু’জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে; যারা শিখ সম্প্রদায়ের। কাশ্মিরের এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ওই অঞ্চলসহ আরো বেশ কিছু রাজ্য। অভিযুক্তরা সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের।

শিশুটির মরদহে গত ১৭ জানুয়ারি উদ্ধার করা হয় এক অপরাধীকে গ্রেফতারের পর। পরে অভিযুক্তদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হলে তাদের মুক্তির দাবিতে হিন্দুত্ববাদীদের সংগঠন ‘হিন্দু একতা মঞ্চ’ প্রতিবাদ শুরু করে। অভিযুক্ত ধর্ষকদের মুক্তির দাবিতে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির দুই মন্ত্রীও রাজপথের বিক্ষোভে অংশ নেন।

মুসা

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: