৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আমিতো শুধু মানুষ দেখি


০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার, ০৪:৪৯  পিএম

দেবজ্যোতি দেবু

নতুনসময়.কম


আমিতো শুধু মানুষ দেখি

মানুষ ভিন্ন অন্য কোনো প্রাণী নাকি? ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রাণীদের রক্তের রঙ আলাদা হয় বুঝি? নাকি ভূ-পৃষ্ঠের মত কাঁটা তারের বেড়ায় দ্বিখণ্ডিত করা সভ্যতার নতুন কোনো পোশাকের নাম `সম্প্রদায়`!

চতুর্দিকে আমিতো শুধু মানুষ দেখি। দুই হাত, দুই পা, লাল রক্ত বিশিষ্ট রঙ-বেরঙের মানুষ। এখানে সম্প্রদায় কোথায়?

সম্প্রদায় একটা শব্দ। যার পার্থক্যে মানুষ আলাদা হয়ে যায়, দেশ আলাদা হয়ে যায়, একটি জাতি খণ্ডে খণ্ডে ভাগ হয়ে যায়। সম্প্রদায় একটা পোশাক, যা পালটে দিলে মানুষের পরিচয়ও পালটে যায়!

প্রশ্ন জাগে, তাহলে যে শব্দটা মানুষে মানুষে বিভাজন এনে দেয়, শব্দগত পরিবর্তনের কারণে পরিচয়ও পালটে দেয়, মানব সভ্যতায় তার কি প্রয়োজন? ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্ম-মৃত্যু কি ভিন্ন ভিন্ন হয়? যদি না হয় তবে এর কি প্রয়োজন?

ছোট বেলায় অনেক বন্ধু ছিল। সবাই একসাথে খেলতাম, স্কুলে যেতাম, ঈদ হোক আর পূজো হোক সবাই একসাথেই ঘুরতে যেতাম। ধর্মীয় নয় বরং সামাজিক উৎসব হিসেবেই পরিচিত ছিল এগুলো আমাদের কাছে। মসজিদে গিয়ে যেমন শিরনী খেতাম তেমনি মন্দিরে বসে প্রসাদও খেতাম। কোনোদিন কোনো বিভেদ দেখিনি আমাদের মাঝে।

কিন্তু কিভাবে যেন সময়ের সাথে সেই সৌহার্দ্যটাও পাল্টাতে থাকলো! পরিচয় পালটে গেল আমাদের। বন্ধু থেকে আমরা হিন্দু-মুসলমান হয়ে গেলাম! মন থেকে আমরা বন্ধু হলেও সমাজ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে লাগলো আমাদের পরিচয় আলাদা। ঈদ-পূজো ঠিকই থাকলো, শুধু মানুষগুলো আলাদা আলাদা হয়ে এগুলোকে সামাজিক থেকে ধর্মীয় উৎসবে রূপ দিলো!

মনে পড়লো, বইয়ের পাতায় পড়েছিলাম এই উপমহাদেশে ব্রিটিশদের শাসনের ইতিহাস। মনে পড়লো, ভাতৃপ্রতীম একটা জনগোষ্ঠীকে কিভাবে তারা মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে শত্রু বানিয়ে দিয়েছিল। মনে পড়লো, মুক্তিযুদ্ধে কিভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে বাঙ্গালি জাতিকে খণ্ডিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। মনে পড়লো স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে এই দেশের মানুষের মগজে কিভাবে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ঢুকিয়ে দিয়ে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছিল। বুঝতে পারলাম, বর্তমান খণ্ডিত রূপটা আসলে সেই বীজ থেকে সৃষ্ট। ধীরে ধীরে যা বটবৃক্ষে রূপ নিচ্ছে।

বড় হতে হতে দেখলাম মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলন, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভেস্তে দিতে একটা মৌলবাদী গোষ্ঠী এই সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মনে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। ভাতৃত্বের মাঝে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকিয়ে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নামক দেয়াল তুলে দিয়ে আমাদের বিভাজিত করছে। মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগিয়ে দিচ্ছে এই সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে। ছোট ছোট বাচ্চাদের মগজে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতায় উস্কে দেয়ার জন্য বারবার আঘাত করা হচ্ছে ভাতৃত্বের বন্ধনে। দিন শেষে বুঝতে পারি এসবই পঁচে যাওয়া রাজনীতির খেলা। এই উপমহাদেশে রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্রিটিশরা যেমন সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢেলেছিল, বর্তমান সময়েও ঠিক একই কায়দায় রাজনীতিতে এই বিষ কাজে লাগানোর নোংরা খেলায় সবাই মত্ত।

আমি সাম্প্রদায়িকতা বুঝি না। আমি বুঝি ভাতৃত্বের এই বন্ধন অটুট থাকবে মানবতার নামে। এই দেশে সম্প্রদায় বলতে মানুষ বুঝবে শুধুই মানুষ। এখানে কোনো সংখ্যাগুরু-লঘু থাকবে না। শৈশবের সেই বন্ধুত্ব আমাদের আগামী প্রজন্মের মাঝেও যেন বজায় থাকে সেটাই চাই। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবেই বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে টিকে থাকুক। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নিপাত যাক।

[সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত] 

https://www.facebook.com/HumaneFirst/ 

 

আরো পড়ুন 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: