২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট ২০১৭, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আমাদের সাহিত্য মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে


১১ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার, ০৩:৩৯  পিএম

মতিন বৈরাগী

নতুনসময়.কম


আমাদের সাহিত্য মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে

‘কালোটাকা যেমন ভালো টাকা বাজার থেকে হটিয়ে দেয়’, তেমনি স্তবস্তৃতির সাহিত্যও একসময় সমাজ জীবন থেকে ভালো সাহিত্যকে ঝেটিয়ে বিদায় করে। আর সমাজের নানা অংশে ভূঁইফোর সাহিত্যিক, তাত্ত্বিক, সুবিধাভোগী যারা প্রাপ্তির লোভে অস্থির; রেবিস আক্রান্ত কুকুরের মতো- উঠে আসে।

এই মাফিয়ারা দখল করে নেয় সংস্কৃতির জগত। এসব ঘটে ত্রুটিপূর্ণ রাজনৈতিক কারণে। অপ-রাজনীতি জনগণের জ্ঞান বিকাশ, নতুন জীবনের দর্শন ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠা দেয় পঙ্গু সংস্কৃতি ও সাহিত্যের। যাতে তাদের আহ্লাদী ভাষায় রাষ্ট্রের মালিক যে জনগণ সে অন্ধকারে থাকে, অশিক্ষিত থাকে, মূর্খ থাকে, চেতনা হীন থাকে এবং তথাকথিত শিক্ষাপদ্ধতির দ্বারা একশ্রেণির রাখাল তৈরি করা হয়, যারা জনগণকে পেটায়, তাড়ায়, হেনস্তা করে এবং এই ডাই ডাই বাই বাই করে।

আর এরকম কর্ম দ্বারা সমাজের সমস্ত সুন্দরটুকু বাষ্প করে উড়িয়ে দেয়, ভাবনাকে গণ্ডিবদ্ধ করে, দৃষ্টিকে সীমিত করে যাতে তারা তাদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে, ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে পারে, এবং কায়েমী আসন পোক্ত করে লুটকে অবারিত করে। আর তখন ‘থাকে শুধু অন্ধকার মুখোমুখি বসিবার’ ফলে জনগণ আর কোনো ফরসুত পায় না, তারা হয় পথভ্রান্ত ও দিকভ্রান্ত মানুষ। লুটের মচ্ছব শুরু হলে সংগত কারণে ভোগবাড়ে, সম্পদ পাচার হয়, প্রান্তিক মানুষ নিঃস্ব হয়, ভূমিহীনের সংখ্যা বাড়ে, অনুৎপাদনশীল খাতে শ্রম বিনষ্ট হয়, অর্থনীতিতে দালাল ফড়িয়ার প্রতাপ বাড়ে, মানুষের মধ্য থেকে দেশপ্রেম উবে যায়, ধর্ষক সেঞ্চুরী করে। আইন শৃংখলার বালাই থাকে না, আইন প্রণেতাদের মধ্যে কেউ কেউ মাদক ব্যবসায়ী হয়, একটা প্রজন্মকে পঙ্গু করে ফেলে। যা থাকে তা হলো কবরের নীরবতা।

অর্থাৎ জনগণ রাষ্ট্র থেকে বিযুক্ত সত্তায় পরিণত হয়, স্বাধীনতা দূর্বল হয়ে পড়ে, জনগণ অধিকার হারায়। এরকম পরিস্থিতিতে সংস্কৃতির কর্মীরা, লেখকরা সাহিত্যিকরা এবং বুদ্ধিবৃত্তির মানুষেরা তাদের মুক্ত স্বাধীন চিন্তা থেকে সৃজনশীল কাজের মধ্যদিয়ে মানুষকে নব চেতনায় জাগ্রত করে, দিকদর্শন নির্ণয় করে, তাদের জ্ঞান বুদ্ধি কর্ম জনগণের সেবায় নিয়োজিত করে আত্মঘাতি অবস্থান থেকে রাষ্ট্র সমাজ ও মানুষকে উদ্ধারের একটা আশা তৈরি করে। কিন্তু তেমন আয়োজন হবার আর কোনো সম্ভবনা আছে বলে মনে হয় না একারণে যে রাষ্ট্র যদি ত্রুটিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্য্কলাপ দ্বারা পুরো সমাজকেই আবদ্ধ করে ফেলে তা হলে প্রজন্মান্তরের সকল মানুষই এক আবদ্ধ চিন্তা কাঠামোর ভিতর হাবুডুবু খায়।

সেখানে তৈরি হয় দালালশ্রেণির লেখক ও বুদ্ধিজীবী। তারা নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ক্ষমতাবানদের, তাদের পোষ্যদের, স্তুবস্তুতি শুরু করে সাহিত্যের দিশাকে পদদলিত করে, এবং এক রোগগ্রস্থ সাহিত্য-চিন্তার প্রবাল্য ডেকে আনে। এই সাহিত্যিকরা শুধু পাবার লোভে ইতিহাসকেও বিকৃত করে। ইতিহাসের মূল উপাদনেও ভেজাল দেয়। আর শাসক তা গ্রহণ করে, বাহবা দেয়, পুরস্কার দেয়, ভ্রমণে পাঠায়, তাদের মাধ্যমে চর্বিতচর্বনজাত সাহিত্য আমদানী রপ্তানী করে।

ফলে মূল সংস্কৃতিতে ভেজাল এমন পরিমাণে বাড়ে যে নির্ণয় করাই কঠিন- আসলে সাহিত্য কী, এর প্রয়োজনীয়তাই বা কী। সাহিত্য মাফিয়ারা এ ভাবেই আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতির জগতটি দখল করে নিয়েছে। আর কতগুলো মিডিয়া যাতে তেমন গুণিমানুষের সমাবেশ নেই তারা তাদেরকে তুলে ধরছে। তরুণরা জানতে পারছে সাহিত্য ও সাহিত্যিকের মিথ্যের জগত। এর প্রয়োজনীয়তা কী, কী হতে পারতো আর কী হয়নি তার পার্থক্য আর তারা নির্ণয় করতে পারে না। এমনি এক দুর্যোগের মধ্যদিয়ে আমাদের সাহিত্যাঙ্গণ মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: