৪ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আমাজন থেকে হাতিয়ে নেওয়া হলো ৫০ লাখ রুপি


১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০২:৪২  এএম

নতুনসময়.কম


আমাজন থেকে হাতিয়ে নেওয়া হলো ৫০ লাখ রুপি

ভারতের দিল্লির বাসিন্দা ২১ বয়সী শিবম চোপড়া আমাজন থেকে অনলাইনে মোট ১৬৬টি দামি মোবাইল ফোনে অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু সেই ডেলিভারি হওয়া বাক্সগুলো খালি ছিল, এই দাবি করে আমাজনের কাছ থেকে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, জালিয়াতির এই গোটা ঘটনাটা ঘটেছে এ বছরের এপ্রিল আর মে, এই দুমাসের ভেতর। এরপর আমাজন বুঝতে পারে যে, তাদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। এরপর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে আমাজন।

দিল্লির উত্তরপ্রান্তে রোহিনী থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাস করা শিবম চোপড়া কিছুদিন ছোটোখাটো কিছু চাকরির চেষ্টা করলেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। তারপর এ বছরের মার্চে তার মাথায় আমাজনকে ঠকানোর বুদ্ধি আসে।

এজন্য তিনি প্রথমে `টেস্ট কেস` হিসেবে আমাজন থেকে দুটো দামি ফোন অর্ডার দেন। তারপর তিনি তাদের জানান, ডেলিভারি হওয়া বাক্সগুলোতে ফোন ছিল না। কাজেই টাকা ফেরত দেওয়া হোক। সেই টাকাও ফেরত দেওয়া হয়।

এরপরই রীতিমতো আঁটঘাট বেঁধে তিনি পরের দুইমাসে আমাজন থেকে একের পর এক অ্যাপল, স্যামসাং, ওয়ানপ্লাস ব্র্যান্ডের দামি মোবাইল ফোন অর্ডার দিতে শুরু করেন। কিন্তু এই অর্ডারগুলোর জন্য তিনি ব্যবহার করেন আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট। আর প্রতিটি অ্যাকাউন্ট খুলতে তিনি স্থানীয় একজন মোবাইল ফোন দোকানদারের সাহায্য নিয়েছিলেন।

ওই দোকানদারই তাকে প্রায় দেড়শোর মতো আগে থেকে অ্যাক্টিভেট করা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড সরবরাহ করেন। আর সেগুলো দিয়ে তিনি আমাজনে অনেক অ্যাকাউন্ট খোলেন। ওই প্রতিটা সিমকার্ডের জন্য শিবম চোপড়া ওই দোকানিকে দেড়শো রুপি করে দিতেন।

তবে কোনো অর্ডারেই ওই তরুণ নিজের সঠিক ঠিকানা ব্যবহার করেননি। সিমকার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে তিনি তার এলাকার কাছাকাছি কোনো ভুয়া ঠিকানা দিতেন। আর ডেলিভারি বয় তার কাছাকাছি এসে যখন ঠিকানা খুঁজে পেতেন না, তখন সেই নম্বরে ফোন করতো।

শিবম চোপড়া তখন যেখানে আছে, ডেলিভারি বয়কে ফোনে ডিরেকশন দিয়ে তার কাছাকাছি কোথাও আসতে বলে সেখানে ডেলিভারি নিতেন। পরে আমাজনকে অভিযোগ করতেন যে, বাক্সে কোনো ফোন ছিল না। ফলে তিনি টাকা ফেরতও পেয়ে যেতেন। আর আমাজন থেকে পাওয়া এই দামি ফোনসেটগুলি তিনি বেচতেন হয় ওএলএক্স-এর মতো পুরনো জিনিস কেনাবেচার সাইটে কিংবা পশ্চিম দিল্লিতে পাইরেটেড জিনিসপত্রের জন্য কুখ্যাত গফফুর মার্কেটে।

দিল্লি পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা মিলিন্দ মহাদেও ডাম্বেরে জানিয়েছেন, ১৬৬টা ফোনের সবকটার জন্যই শিবম চোপড়া ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। আর এভাবেই হাতিয়ে নিয়েছিলেন ৫০ লাখ টাকারও বেশি।

গত তিন/চার মাস ধরে তদন্ত চালিয়ে দিল্লি পুলিশ অবশেষে শিবম চোপড়াকে এ সপ্তাহে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাকে যিনি মোবাইল সিমকার্ড জোগান দিতেন, সেই দোকানদারকেও পুলিশ আটক করেছে।

ধরা পড়ার সময় শিবম চোপড়ার কাছ থেকে ১৯টি মোবাইল ফোন সেট, ১২ লাখ টাকা নগদ ও ৪০টি ব্যাংক পাসবুক ও চেকবুকও পাওয়া গেছে। এক বন্ধুর কাছে তিনি আরো ১০ লাখ রুপি জমা রেখেছিলেন। সে টাকারও খোঁজ মিলেছে।–বিবিসি বাংলা

 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: