৫ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড

আপন অক্ষমতার পীড়নে লজ্জিত


০৭ আগস্ট ২০১৭ সোমবার, ০৬:৪২  পিএম

রাসেল পারভেজ

নতুনসময়.কম


আপন অক্ষমতার পীড়নে লজ্জিত

বিপন্ন, বিষণ্নতা কিংবা ক্ষুব্ধ নির্লিপ্ততা- বিশ্বজিত হত্যা মামলার রায়ে এখন পর্যন্ত যে ভোঁতা অনুভূতি গ্রাস করেছে তাকে কি নামে ডাকবো। গত পাঁচ বছরে যতবার ছবিটা চোখের সামনে এসেছে ততবারই আপন অক্ষমতার পীড়নে লজ্জিত বোধ করেছি।

আমাদের নিস্পৃহতা, আমাদের অনাগ্রহে ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতি এমন দানবদের নিয়মিত পৃষ্টপোষকতা করছে। সাধারণ মানুষ আদতে বিশ্বজিত- এমন নির্মম অকারণ সংঘাতে খুন হয়ে যাওয়া তাদের একমাত্র প্রাপ্তি।

নৃশংসতার দৃশ্যায়ন আদালতের রায়ে প্রভাব ফেলে নি। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনী কাঠামোতে শুধু মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্যে অনুমোদিত বিশেষ আদালতেই বিকল্প সাক্ষীর গুরুত্ব আছে- অপরাপর আদালতে পুলিশী তদন্ত প্রতিবেদন, ডাক্তারের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আনুসাঙ্গিক বিষয় সাক্ষ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

টিভি ক্যামেরা ছাত্রলীগের কর্মীদের জিঘাংসা সরাসরি সম্প্রচার করেছে- পুলিশ প্রতিবেদন কিংবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হামলার ভয়াবহতা পুরোপুরি আসে নি। আঘাতের পরিমাণ কম দেখানো হয়েছিলো।
পুলিশ প্রতিবেদন বিষয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ছিলো না কোনো সময়ই- পুলিশ দুর্নীতিগ্রস্ত একটা সংস্থা তবে ডাক্তারের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে কয়েকটি পত্রিকা বিরুপ মন্তব্য করেছিলো। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের যোগ্যতা- মাণ-মর্যাদা নিয়ে মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ মন্তব্যও করেছিলো।

পুলিশ প্রতিবেদন এবং ডাক্তারের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে উচ্চ আদালত শুধু পলাতক দুইজন আসামীর ফাঁসীর আদেশ বহাল রেখেছেন। বাকী সবার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং দুই জনকে নিরপরাধ ঘোষণা করেছেন।

বিচারকদের হাত-পা বাধা। তারা উপস্থিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। বিদ্যমান আইনে গ্রহণযোগ্য নয় এমন তথ্যের ভিত্তিতে আগবাড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।

নৃশংস হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো রাজনৈতিক জিঘাংসা কিংবা রাজনৈতিক খুনের ন্যায়বিচার হয় নি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দণ্ডিত এইসব কোমলমতি যুবকদের সবাই কয়েকবছর পর রাষ্ট্রপতির অনুগ্রহে সদাচারণ করে মুক্ত জীবনে ফিরে আসবে।

নৃশংস অপরাধীর যাবজ্জীবন অর্থ যাবজ্জীবন এবং তাদের রাষ্ট্রপতির সাধারণ অনুকম্পামূলক ক্ষমার আওতায় আনা যাবে না এমন বিধান অনুমোদিত হলে হয়তো এই বাস্তবতা এড়ানো সম্ভব হতো।

রাসেল পারভেজ : লেখক 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: