৬ বৈশাখ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আইডিয়াল স্কুলে ফের অবৈধ ভর্তির পাঁয়তারা


১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার, ০৫:২১  পিএম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


আইডিয়াল স্কুলে ফের অবৈধ ভর্তির পাঁয়তারা

 

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলে গত কয়েক বছরের মতো এবারও অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে তৎপরতা শুরু করেছে গভনিং বডির কয়েকজন সদস্য। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি অসাধু চক্র এবং অভিভাবক নেতা।

এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ গর্ভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের নিষেধের পরও অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।

এ নিয়ে স্কুলের অভিভাবকসহ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকায় পোস্টারিং পর্যন্ত হয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও করেছেন।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে সকল শাখায় মোট আসন ছিল ৮০০। ইতোমধ্যেই লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন শিশুরা। ফলে আর কোনো আসন খালি নেই। বিষয়টিতে এবার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে খোদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তাই বলে বসে নেই ভর্তি বাণিজ্যে জড়িতরা। ইতোমধ্যেই অবৈধভাবে ভর্তির জন্য প্রভাবশালীদের সুপারিশ নিয়ে তালিকা জমা দিয়েছেন। একজন সদস্যই এক হাজার ভর্তি করাতে চান বলে চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্কুলের শিক্ষকরা। আর অবৈধ ভর্তির জন্য যে তদবির তার সংখ্যা অন্তত দুই হাজার।

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সরকারের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোরশেদ খান, অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম ছাড়াও গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য অবৈধভাবে ভর্তি করতে নারাজ। ক্ষমতাসীন দলের একজন গভনিং বডির সদস্য ‘অন্তত এক হাজার ভর্তি চাই’ এমন ঘোষণায় প্রতিবাদে গভর্নিং বডির অন্য সদস্যরা এই অবৈধ ভর্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এরমধ্যে একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে পোস্টার ও লিফলেট বিলি করছেন। এসব ঘটনায় বছরের শুরুতেই মারাত্মক শিক্ষা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

অভিভাবকরা বলছেন, সাবেক একজন নেতার তদবিরের জন্যই সমস্যা জটিল হচ্ছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির গভনিং বডির সদস্য। সভাপতিসহ অন্যরা না চাইলেও তিনি এবং তার কিছু লোকজন ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার অভিভাবকের কাছ থেকে এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আন্দোলন শুরু করেছেন অভিভাবকরা। তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় ব্যানার পোস্টার লাগিয়ে মিছিল প্রতিবাদ করেছেন।

সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ খান স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, সরকারের নীতিমালার বাইরে কোনো ভর্তি করা চলবে না।

স্কুলের অধ্যক্ষ ড. শাহান ভর্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিদ্ধান্ত না হওয়ার পর্যন্ত এ বিষয়ে কথা বলা সমচিত হবে না বলে জানান তিনি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভর্তি নিয়ে আমি খুব ঝামেলায় আছি, পরে কথা বলবো।

তবে চাপ থাকলেও সরকারের আইনের বাইরে কিছু করতে রাজি নন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গভনিং বডির সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেন, ভর্তি নীতিমালার বাইরে এবার কিছু হবে না। কারণ দুদক থেকে আমাদের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় অবৈধভাবে ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। যারা তদবির করছেন তারা ভুয়া বলে জানান তিনি।

এদিকে, যার বিরুদ্ধে অবৈধ ভর্তির অভিযোগ সেই জাহিদুল ইসলাম টিপু সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, গত ৫ জানুয়ারি এ নিয়ে মিটিং হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। পরবর্তী মিটিং না হওয়ার পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না।

তিনি বলেন, যারা অভিযোগ করছেন আমি যদি বলি তারাও অবৈধভাবে ভর্তির চেষ্টা করছেন।

অভিভাবকরা জানান, কলোনি কোটা নিয়ে এতোদিন কোনো আপত্তি না থাকলেও এবার এ কোটা বাতিলের দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা। এ কোটা নিয়ে গর্ভনিং কমিটি ও অভিভাবক নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ ভর্তি বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: