১৩ বৈশাখ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

অপেক্ষা


১৩ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার, ০৫:০৪  পিএম

নতুনসময়.কম


অপেক্ষা

পয়লা বৈশাখে রাজধানীর রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার বিচারের প্রথম পর্যায় শেষ হতে পার হয়ে গেছে ১৪ বছর। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্টে যাওয়ার পর পার হয়েছে আরো প্রায় চার বছর। চাঞ্চল্যকর এ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি আসামিরাও হতাশায় ভুগছেন।

একবার শুনানি শেষ হলেও রাষ্ট্রপক্ষের সময়ক্ষেপণের কারণে মামলাটির নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতির কারণে বিলম্ব হচ্ছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে, আদালত পরিবর্তনের কারণে হাইকোর্টে মামলাটি থমকে আছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের শুরুতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শুরু হলেও পরে সেটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি আরিফ হোসেন সুমনের আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি বলেন, ‘হাইকোর্টে মামলাটি আপিল ও ডেথ রেফারেন্স হিসেবে শুনানির জন্য আসার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি শুনানির নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চে ঠিক করে দেন। এরপর মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি শুরু হয়।’

আসামিদের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুজিত চ্যাটার্জি, মোহাম্মদ আলী শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ হোসেন ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। এরপর শুনানি প্রায় সমাপ্ত হয়ে যায়।

এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাঁর কিছু অসমাপ্ত বক্তব্য প্রদানের জন্য ছয় সপ্তাহ সময় নেন। এর পর থেকে তিনি আর শুনানিতে অংশ নেননি। তাঁর পক্ষে শুধু সময় আবেদন করা হয়। একপর্যায়ে এসে আদালত বিরক্ত হয়ে মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন বলে দাবি করেন আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি।

আইনজীবী আরো বলেন, ‘এর পর থেকে দীর্ঘদিন মামলাটি পড়ে আছে। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ বিচারপতি রুহুল কুদ্দস ও ভীষ্মদেব কুমার চক্রবর্তী বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। গতকাল ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ১৭ নম্বরে ছিল। কিন্তু আর শুনানি হয়নি। এতে করে আসামিদের মধ্যেও হতাশা বাড়ছে।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, রমনা বোমা হামলার ঘটনায় ১৪ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দায়রা জজ আদালত মুফতি আবদুল হান্নানসহ আট জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হাইকোর্টে চলমান রয়েছে। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি আড়াই বছর পর ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি শুরু হয়। তবে দীর্ঘ চার বছর পার হলেও এখনো শুনানি শেষ হয়নি।

এ মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নানকে এরই মধ্যে অন্য একটি মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের বিচার চলমান রয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর রমনার বটমূলে বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। তাতে ১০ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে। ওই ঘটনার ১৪ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দায়রা জজ আদালত মুফতি হান্নানসহ আট জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন হুজি নেতা মুফতি আবদুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আকবর হোসাইন ও আরিফ হাসান। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক। এ ছাড়া এ মামলায় হুজির আরো ছয় জঙ্গিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

এসএ

 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: