৬ বৈশাখ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন পাস হবে মঙ্গলবার


০৮ জানুয়ারি ২০১৮ সোমবার, ০৮:৫৯  পিএম

নতুনসময়.কম


অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন পাস হবে মঙ্গলবার

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন সংসদে পাস হবে আগামীকাল মঙ্গলবার।

সংসদ সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মঙ্গলবার অধিবেশনের কার্যসূচিতে এর উল্লেখ আছে। এ আইন পাস হলে মানুষ দেশেই মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করার সুযোগ পাবে।

এর আগে, ১৩ সেপ্টেম্বর মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণে বাণিজ্যিক ব্যবহার রোধের পাশাপাশি এর পরিধি বাড়াতে সংসদে একটি বিল উত্থাপিত হয়।

সংসদের বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ সংক্রান্ত ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল ২০১৭’উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে দুই মাসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। এই আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এই চিকিৎসা সেবা দিতে অনুমতির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে সরকারি হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে অনুমতি লাগবে না।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির চোখ ছাড়া অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলে তিনি নিকটাত্মীয়কে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। তবে চোখ ও অস্থিমজ্জা সংযোজন ও প্রতিস্থাপনে নিকটাত্মীয় হওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বিদ্যমান আইনে শুধু পুত্র-কন্যা, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী এবং রক্তের সম্পর্কে সম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা— এই ১২ জন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণ করতে পারেন। তবে প্রস্তাবিত আইনে ‘নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী ও রক্ত সম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা-নানী, দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি, আপন চাচাতো-মামাতো-ফুপাতো-খালাতো ভাই-বোনেরাও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণ করতে পারবেন। মৃত ব্যক্তির অঙ্গপ্রত্যঙ্গও অন্যের শরীরে সংযোজন করা যাবে।

বিলে ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে’র সংজ্ঞায় মানবদেহের কিডনি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, অন্ত্র, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, অস্থি, অস্থিমজ্জা, চোখ, চর্ম ও টিস্যুসহ মানবদেহে সংযোজনযোগ্য যেকোনো অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গকে বোঝানো হয়েছে।

বিলে আত্মীয়ের মিথ্যা তথ্য দেয়াসহ আইন ভঙ্গের অপরাধে সাজার মেয়াদ কমলেও বাড়ানো হয়েছে জরিমানা। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিকটাত্মীয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে বা মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত বা প্ররোচিত করলে বা ভয় দেখালে অনধিক দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। আইনের অন্যান্য বিধান লঙ্ঘন করলে অথবা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। কোনো চিকিৎসক দণ্ডিত হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের দেওয়া নিবন্ধন (চিকিৎসা সনদ) বাতিল হবে। এছাড়াও কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করলে অনুমতি বাতিল ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: